
ভারতের রাজনীতিতে এমন সব দল আছে, যাদের নাম শুনলে আপনি চমকে যাবেন, হেসে ফেলবেন, বা ভাবতে বসবেন যে এমন নামও রাখা যায়! এর মধ্যে কিছু দল জাতিভিত্তিক, কিছু বিশেষ সম্প্রদায় বা ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি, আবার কিছু পুরোপুরি সোশ্যাল মিডিয়ার মস্করা থেকে জন্ম নিয়েছে। এখানে এমনই কিছু অদ্ভুত নামের রাজনৈতিক দল এবং তাদের গল্প দেওয়া হল।
পুরো নাম — নির্বল ইন্ডিয়ান শোষিত হামারা আম দল।
নামটা এতটাই লম্বা যে সবাই একে ছোট করে "নিষাদ পার্টি" বলেই ডাকে। এই দলটি উত্তরপ্রদেশে জেলে এবং নিষাদ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। দলের প্রতিষ্ঠাতা হলেন সঞ্জয় নিষাদ। ২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট করে দলটি বেশ আলোচনায় ছিল।
ছোট করে — VIP।
এই দলের নাম শুনে অনেকে প্রথমবার কোনো লাক্সারি হোটেল বা ক্লাবের নাম ভেবে ভুল করেন। বিহারের নেতা মুকেশ সাহানি এই দলটি শুরু করেছিলেন। তিনি নিজেকে "সন অফ মাল্লাহ" (মাঝির ছেলে) বলেন। দলটির মূল ফোকাস অনগ্রসর এবং মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের উপর।
নামের মধ্যে "লোক", "জন" এবং "শক্তি"—সবই জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
রামবিলাস পাসোয়ানের এই দলটি বিহারের দলিত রাজনীতির একটি বড় মুখ ছিল। পরে অবশ্য দলটি LJP (রামবিলাস) এবং RLJP-এর মতো বিভিন্ন ভাগে ভেঙে যায়।
মানে "আরশোলা জনতা পার্টি"!
এটি কোনো আসল নির্বাচনী দল নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন। বেকারত্ব এবং সিস্টেমকে কটাক্ষ করে এটি তৈরি করা হয়েছিল। এর ট্যাগলাইন ছিল — "Voice of the Lazy & Unemployed" অর্থাৎ "অলস আর বেকারদের কণ্ঠস্বর"। কয়েক দিনের মধ্যেই এর লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার হয়ে যায়।
"ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট" অর্থাৎ "জাতীয় পরজীবী মোর্চা"।
এটিও একটি ইন্টারনেট স্যাটায়ার পার্টি। এর উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা বক্তব্যের মজা ওড়ানো। দলটি নিজেদের "সিস্টেমের আসল শিকার"-দের আওয়াজ বলে দাবি করত।
নামের মানেই হল — "সারা ভারত বেকার পার্টি"।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে নথিভুক্ত এমন অনেক ছোট দলের নাম বেশ অদ্ভুত। এই দলটি বেকারত্বের ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল।
নামটা শুনলেই মনে হয় যেন কোনো দুর্নীতি বিরোধী মিশন চলছে।
এই দলটিও নির্বাচন কমিশনের ছোট নথিভুক্ত দলগুলোর তালিকায় ছিল।
সোজাসাপ্টা নাম — "গরিব পার্টি"।
এই ধরনের দলগুলো প্রায়শই একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তৈরি হয়, কিন্তু নির্বাচনে তাদের প্রভাব খুব সীমিত থাকে।
নামটা এতটাই সাধারণ যে প্রথমবার শুনলে মনে হয় কোনো স্কুলের প্রজেক্ট, আসল রাজনৈতিক দল নয়।
এই দলটিও নির্বাচন কমিশনের তালিকায় নথিভুক্ত ছিল।
এই নামটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং Reddit-এ বেশ চর্চায় এসেছিল। দলটি নিজেদের যুবক এবং UPSC পরীক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর বলে দাবি করে।
এই দলগুলোর অনেককে হয়তো নির্বাচনে দেখাই যায় না, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তালিকায় তাদের নাম ঠিকই থাকে। ভারতের রাজনীতি শুধু বড় দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এখানে এমন সব দলও আছে, যাদের নামই তাদের পুরো গল্পটা বলে দেয় — কেউ জাতির কথা বলে, কেউ বেকারদের, আবার কেউ সরাসরি "আরশোলা" হয়ে সিস্টেমের মজা ওড়ায়।