Liquor Ban: ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) মদ্যপায়ীদের জন্য একটি বড় খবর দিয়েছে। ওল্ড মঙ্ক, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ এবং ব্যাগপাইপারের মতো জনপ্রিয় মদের ব্র্যান্ডের কিছু ভ্যারিয়েন্টের বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আমরা যে মদ পান করি, তা কি আসল? ওল্ড মঙ্ক, ব্যাগপাইপার, রয়্যাল চ্যালেঞ্জের বড় প্রতারণা!
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) দেশের জনপ্রিয় মদের ব্র্যান্ডগুলির উপর কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। ওল্ড মঙ্ক, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ, ব্যাগপাইপার এবং অ্যান্টিকুইটি ব্লু-র মতো ব্র্যান্ডের কিছু নির্দিষ্ট মদের বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি মদ তৈরির সঠিক নিয়ম মানছিল না এবং কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করছিল। ল্যাব টেস্টে FSSAI নিশ্চিত করেছে যে, এই ব্র্যান্ডগুলি প্রাকৃতিক উপায়ে মদ তৈরি না করে রাসায়নিক মিশিয়ে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছিল।
25
ল্যাব টেস্টে আসলে কী জানা গেল?
সাধারণত ভালো মানের হুইস্কি বা রাম তৈরি করতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। মল্ট, আঙুর বা আখের মতো জিনিস ফারমেন্টেশন বা গাঁজানোর পর বেশ কয়েক বছর ধরে প্রাকৃতিক উপায়ে ম্যাচিউর হতে দেওয়া হয়। তবেই এর আসল স্বাদ এবং গন্ধ তৈরি হয়। কিন্তু এই নামী কোম্পানিগুলো অত সময় অপেক্ষা না করে একটি শর্টকাট পথ বেছে নিয়েছে। তারা নিউট্রাল অ্যালকোহলের মধ্যে বাইরে থেকে কৃত্রিম রাম বা হুইস্কির ফ্লেভার মিশিয়ে দিচ্ছিল। অর্থাৎ, হুইস্কিতে হুইস্কির গন্ধ এবং রামের মধ্যে রামের গন্ধযুক্ত রাসায়নিক ফ্লেভার মেশানো হচ্ছিল। FSSAI-এর আইন অনুযায়ী, বাইরে থেকে এভাবে কৃত্রিম গন্ধ মেশানো একটি গুরুতর অপরাধ।
35
কোন কোন ব্র্যান্ড, কোথায় কোথায় নিষিদ্ধ হল?
আপাতত মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রসেসিং ইউনিটে তৈরি হওয়া ব্যাচের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। • ইউনাইটেড স্পিরিটস (মধ্যপ্রদেশ): অ্যান্টিকুইটি ব্লু হুইস্কি, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ হুইস্কি।
• ইনব্রু বেভারেজেস (মধ্যপ্রদেশ): ব্যাগপাইপার ডিলাক্স হুইস্কি, ওল্ড কাস্ক ডিলাক্স নম্বর রাম।
• মোহন রকি স্প্রিংওয়াটার (মহারাষ্ট্র): দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় ওল্ড মঙ্ক রামের ৩টি ভ্যারিয়েন্ট। শুধু এই তালিকা নয়, ম্যাকডোয়েলস নম্বর ১ রামের মতো আরও কিছু প্রোডাক্টও তদন্তের অধীনে রয়েছে বলে জানা গেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু নির্দিষ্ট প্ল্যান্টে তৈরি মদের জন্য, নাকি দেশজুড়ে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল, 'ওল্ড মঙ্ক নম্বর রাম'-এর বোতলের উপর '7 ইয়ার্স ওল্ড ব্লেন্ডেড' (৭ বছর ধরে সংরক্ষিত রাম) ছাপিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। কিন্তু FSSAI-এর ল্যাব টেস্টে দেখা গেছে, এতে ৫ শতাংশেরও কম আসল পুরনো রাম রয়েছে। বাকি ৯৫ শতাংশের বেশি হল স্বাদহীন সাধারণ নিউট্রাল স্পিরিট। FSSAI জানিয়েছে, এভাবে ভুল লেবেল লাগিয়ে গ্রাহকদের ঠকানো 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (লেবেলিং অ্যান্ড ডিসপ্লে) রেগুলেশনস, ২০২০'-এর সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। সংস্থাটি নির্দেশ দিয়েছে, যদি রাসায়নিক ফ্লেভার মেশানো হয়, তবে বোতলের সামনে 'রাম ফ্লেভারড স্পিরিট' বা 'হুইস্কি ফ্লেভারড স্পিরিট' কথাটি স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
55
৩.৩ লক্ষ কোটি টাকার বাজারে সতর্কতা
ভারতে মদের ব্যবসা বিশাল। আমাদের দেশে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩.৩ লক্ষ কোটি টাকা) মূল্যের অ্যালকোহল বিক্রি হয়। ডিয়াজিও ইন্ডিয়া (ইউনাইটেড স্পিরিটস) এবং পেরনোড রিকার্ডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এখানে ব্যবসা করে। যে ব্র্যান্ডগুলির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলি ভারতেই তৈরি হয়। তাই আমদানি করা স্কচ বা প্রিমিয়াম রামের চেয়ে এগুলির দাম কম। এই কারণেই মধ্যবিত্ত এবং তরুণদের মধ্যে এগুলি বেশি জনপ্রিয়। FSSAI জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ পুরো মদ শিল্পের বিরুদ্ধে নয়, বরং যারা নিয়ম ভেঙে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই। গোয়ার ম্যান্ডেসি ডিস্টিলারিজ এবং মহারাষ্ট্রের আরও ছয়টি সংস্থাকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দুটি কোম্পানিকে মজুত থাকা স্টক বিক্রি করার সুযোগ দেওয়া হলেও, বোতলের লেবেলে আসল তথ্য জানানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।