
IMD Rain Alert: এল নিনোর প্রভাবে বর্ষার শুরু থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু গত দু-তিন দিনে রাজ্যের আবহাওয়া পুরোপুরি বদলে গেছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপ এখন শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর অন্ধ্রের জেলাগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু অমরাবতীতে শীর্ষ আধিকারিক ও মন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।
অমরাবতীতে ভারী বৃষ্টি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। মুখ্যসচিব, ডিজিপি সহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের বর্তমান আবহাওয়া, বৃষ্টির দাপট এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান। হড়পা বান বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকা এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে আগে থেকেই সতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে নিচু এলাকা এবং নদী অববাহিকায় কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মাঝে এটি আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
এর প্রভাবে শ্রীকাকুলাম, পার্বতীপুরম মান্যম, বিজয়নগরম, বিশাখাপত্তনম, অনাকাপল্লী, পোলাভরম এবং আল্লুরি সীতারামারাজু জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ইতিমধ্যেই উত্তর অন্ধ্রের বেশ কিছু জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম গোদাবরী, পূর্ব গোদাবরী, ড. বিআর আম্বেদকর কোনাসীমা, কাকিনাড়া, এলুরু, কৃষ্ণা এবং এনটিআর জেলার কিছু অংশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বরও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি চলবে।
রাজ্যের ২৬১টি মণ্ডলে বৃষ্টির পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছেন আধিকারিকরা। এর মধ্যে ১২৯টি মণ্ডলে ভারী, ১২১টিতে স্বাভাবিক, ৯টিতে অতি ভারী এবং ২টিতে চরম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর উপকূল ও গোদাবরী অববাহিকায় ভারী বৃষ্টির কারণে নদী ও খালগুলোতে হঠাৎ বন্যা দেখা দিতে পারে। তাই নদী বা খাল পারাপারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। হড়পা বানের সম্ভাবনা থাকা এলাকাগুলোতে আধিকারিকদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের আবহাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর শ্রীকাকুলামের ৩০টি মণ্ডলেই বৃষ্টি হয়েছে। বিজয়নগরমের ২৮টির মধ্যে ২৬টি মণ্ডলে এবং পার্বতীপুরম মান্যমের ১৪টি মণ্ডলে ১০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ১ জুন থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৬.৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে এই নিম্নচাপের জেরে উত্তর অন্ধ্র ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টির দাপট অনেকটাই বেড়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্য কন্ট্রোল রুমের টোল-ফ্রি নম্বর: ১১২, ১০৭০, ১৮০০৪২৫০১০১
জেলা ভিত্তিক কন্ট্রোল রুমের নম্বর:
শ্রীকাকুলাম - ০৮৯৪২-২৪০৫৫৭ অথবা ৬৩০৯৯৯০৯৩৩
বিজয়নগরম - ০৮৯২২-২৩৬৯৪৭
পার্বতীপুরম মান্যম - ০৮৯৬৩৪৫০৩৪৭
আল্লুরি সীতারামারাজু জেলা - ৯৪৯৩৪১৫৬৭০
পোলাভরম - ৯৯৪৯৯০৩৩৬৮
বিশাখাপত্তনম - ০৮৯১-২৫৯MDEw২ অথবা ০৮৯১-২৫৯MDEw০
অনাকাপল্লী - ০৮৯২৪২২২৮৮৮ অথবা ০৮৯২৪২২৬৫৯৯ অথবা ০৮৯২৪২২৫৯৯৯
কাকিনাড়া - ০৮৮২-২৩৫৬৮০১ অথবা ৯৮৪৯৯০৩৮৭৯
ড. বিআর আম্বেদকর কোনাসীমা - ৮৮৫৬২৯৩১০৪
পূর্ব গোদাবরী - ৮৯৭৭৯৩৫৬১১ অথবা ৯১৭৭১৪৩৯৯৯
পশ্চিম গোদাবরী - ০৮৮১৬-২৯৯১৮১
এলুরু - ১৮০০২৩৩১০৭৭ অথবা ৯৪৯৪০৪১৪১৯
কৃষ্ণা - ০৮৬৭২২৫২৩৯৯
এনটিআর - ৯১৫৪৯৭০৪৫৪
গুন্টুর - ০৮৬৩-২২৩৪০১৪
পালনাডু - ০৮৬৪৭-২৫২৯৯৯
প্রকাশম - ১০৭৭ অথবা ০৮৫৯২-২৮১৪০০
নেল্লোর - ০৮৬১-২৩৩১২৬১
ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর জলস্তরের ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। জলাধারগুলোতে জলের পরিমাণ, জল ঢোকা এবং বেরোনোর পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে আগাম ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
নিচু এলাকাগুলোতে জল জমার আশঙ্কা থাকলে আগে থেকেই মানুষকে সতর্ক করতে হবে। প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং চিকিৎসার মতো জরুরি পরিষেবাগুলো যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য সব দপ্তরকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গভীর নিম্নচাপের জেরে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। তাই খুব প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, হোর্ডিং এবং পুরনো বাড়ির কাছাকাছি থাকা একেবারেই নিরাপদ নয়। নদী বা খালগুলোতে জলের তোড় বেশি থাকলে তা পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রে বৃষ্টির দাপট চলবে। তাই প্রশাসন যে নির্দেশিকা দিচ্ছে, তা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।