
উৎসবের মরসুমের আগে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, "নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে, ৩১.১০.২০২৬ পর্যন্ত ১০ লক্ষ মেট্রিক টনের ট্যারিফ রেট কোটার (TRQ) অধীনে এই আমদানি 'ফ্রি' করা হয়েছে।" অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি আমদানিতে কোনও শুল্ক লাগবে না।
পাশাপাশি, সরকার 'স্ট্যান্ডার্ড ইনপুট-আউটপুট নর্মস'-এর (SION E52) অধীনে জারি করা 'অ্যাডভান্স অথরাইজেশন' স্কিমটিকে একবারের জন্য ট্যারিফ রেট কোটা (TRQ) স্কিমে আমদানির সুযোগ দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সুবিধার আওতায় ইতিমধ্যেই আমদানি করা কাঁচা চিনি থেকে তৈরি হওয়া এবং ভবিষ্যতে তৈরি হতে চলা পরিশোধিত চিনিও অন্তর্ভুক্ত হবে।
DGFT একটি পাবলিক নোটিশের মাধ্যমে এই TRQ পরিচালনা এবং 'অ্যাডভান্স অথরাইজেশন' স্কিম থেকে TRQ-তে পরিবর্তনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবে। এই পরিবর্তনের নিয়মটি ২০ আগস্ট, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত 'অ্যাডভান্স অথরাইজেশন' স্কিমের অধীনে আমদানি করা চিনির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ভারতে, বিশেষ করে আসন্ন উৎসবের মরসুমের কারণে চিনির চাহিদা এখন তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে জোগান ঠিক রাখতেই সরকারের এই পদক্ষেপ। চাহিদা বাড়ার কারণে, কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী গত ৯ আগস্ট একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন। সেখানে চিনির বর্তমান স্টক, উৎপাদন এবং মরসুমের চাহিদা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর জোশী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন, "খাদ্য দপ্তরের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চিনির বর্তমান স্টক, উৎপাদন এবং চলতি মরসুমের চাহিদা মূল্যায়নের জন্য একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছি। আমি মরসুমজুড়ে পর্যাপ্ত স্টক বজায় রাখতে এবং স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ার ও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছি।"
এদিকে, উল্লেখ্য যে, মে মাসে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ভারত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনি রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চিনির রপ্তানিকে 'সীমাবদ্ধ' (restricted) তালিকা থেকে 'নিষিদ্ধ' (prohibited) তালিকায় আনা হয়েছে।