Court Order: নিজের বাবাকে দিনের পর দিন মারধর করার অপরাধে ছেলেকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিল কুনামকুলাম আদালত। মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় ৭৮ বছরের বাবা সাইমনকে মারধর করে ছেলে।
Court Order: নিজের বাবাকে দিনের পর দিন মারধর আর হেনস্থা করত ছেলে। এবার সেই ছেলেকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিলেন কুনামকুলাম ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেট এল. জয়ান্থন। কুনামকুলামের পারেম্পাদাম ভাদাক্কেথালাক্কাল এলাকার বাসিন্দা ৭৮ বছরের সাইমন। তাঁর ৪৬ বছরের ছেলে জোবি তাঁকে নিয়মিত মারধর করত। আদালত তাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর গতকাল সন্ধ্যায় কুনামকুলাম পুলিশের সাহায্যে জোবিকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় বাবা সাইমনকে মারধর করেছিল জোবি। সেই ঘটনায় কুনামকুলাম পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি ক্রিমিনাল কেসও দায়ের করেছিল। ওই মামলায় জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরও জোবি বাবাকে মারধর করা থামায়নি। কয়েক মাস আগে নিষিদ্ধ তামাকজাত দ্রব্য (হ্যান্স) বিক্রির অভিযোগে পুলিশ জোবিকে গ্রেফতার করেছিল। সেই মামলাতেও সে জামিনে মুক্ত। কুনামকুলাম পুলিশের খাতায় সে রীতিমতো দাগি আসামি।
খাবার না দেওয়ায় জেলা শাসকের হস্তক্ষেপ
ছেলে খাবার দিতে রাজি না হওয়ায় সাইমন ত্রিশূরের জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জেলা শাসক নির্দেশ দেন, জোবিকে প্রতি মাসে সাইমনের হাতখরচ হিসেবে ৩,০০০ টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি, জেলা শাসকের নির্দেশে এও স্পষ্ট করা হয়, সাইমনকে প্রতিদিন খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর অন্য সন্তানদেরও নিতে হবে।
জেলা শাসকের নির্দেশ মেনে সাইমনকে খাবার দিতে এসেছিলেন তাঁর আরেক ছেলে থাম্পির স্ত্রী রিয়া। জোবি তাঁকেও হেনস্থা করে। এই ক্রমাগত অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রিয়া আইনজীবী সি.বি. রাজীবের মাধ্যমে একটি পিটিশন দায়ের করেন। সেই পিটিশনের ভিত্তিতেই কুনামকুলাম আদালত এই কড়া নির্দেশ দিয়েছে। সাইমনের স্ত্রী বেবি চার বছর আগে মারা গেছেন। সাইমনের মোট তিন ছেলে।


