
ভারতের সামুদ্রিক শক্তি আজ এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গেল। দেশের তৈরি পারমাণবিক সাবমেরিন INS Aridhaman আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌসেনায় যোগ দিয়েছে। এই উপলক্ষে অন্ধ্রপ্রদেশের Visakhapatnam-এ আয়োজিত নৌসেনার অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Rajnath Singh।
কমিশনিংয়ের আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ লেখেন, "শব্দ নয়, শক্তি হল অরিদমন।" পরমাণু শক্তি এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে সজ্জিত এই সাবমেরিন নৌসেনায় যোগ দেওয়ায় ভারতের কৌশলগত শক্তি এবং পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
INS Aridhaman হল ভারতের তৃতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (SSBN)। এই সাবমেরিনটি সমুদ্রের গভীরে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, জলের তলায় একে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব।
এই সাবমেরিনটি K-15 Sagarika এবং K-4 Missile-এর মতো মারাত্মক ব্যালিস্টিক মিসাইল বহন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি নৌসেনায় যোগ দেওয়ায় ভারতের নিউক্লিয়ার ডিটারেন্স বা পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও মজবুত হল।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, INS Aridhaman আকার এবং ক্ষমতার দিক থেকে আগের দুটি সাবমেরিনের চেয়ে অনেক বড় এবং বেশি শক্তিশালী। এই সিরিজের চতুর্থ পারমাণবিক সাবমেরিনটি বর্তমানে সমুদ্রে ট্রায়ালে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের মধ্যে সেটিও নৌসেনায় যোগ দেবে।
ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন প্রকল্পের শুরু হয়েছিল INS Arihant দিয়ে।
এবার INS অরিদমন যোগ দেওয়ায় ভারতের হাতে মোট তিনটি পারমাণবিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন হল।
এই একই অনুষ্ঠানে ভারতীয় নৌসেনা আরও একটি বড় উপহার পেয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ INS Taragiri-ও নৌসেনায় যোগ দিয়েছে। এটি প্রজেক্ট 17A-এর অধীনে তৈরি চতুর্থ শক্তিশালী ফ্রিগেট এবং এতে ৭৫ শতাংশের বেশি দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৬,৬৭০ টন ওজনের এই যুদ্ধজাহাজটি আধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যার ফলে শত্রুপক্ষের রাডারে একে ধরা খুব কঠিন।
INS Taragiri তৈরি করেছে মুম্বইয়ের সরকারি সংস্থা Mazagon Dock Shipbuilders Limited। এই জাহাজটি তৈরির কাজে দেশের ২০০-র বেশি ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) অংশ নিয়েছে। এই কারণেই এটিকে 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগের একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন একটা সময়ে যখন Indo-Pacific Region-এ কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়ছে, তখন এই নতুন প্ল্যাটফর্মগুলো নৌসেনায় যোগ দেওয়া ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের পূর্ব উপকূলের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে এবং এই নতুন সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নজরদারি এবং কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করবে।