
মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের (UN) ব্যাপক সংস্কারের জন্য আবারও জোর সওয়াল করল ভারত। বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC), সাধারণ সভা (General Assembly) এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদকে (ECOSOC) ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা 'ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত' হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার এক বৈঠকে 'ভবিষ্যতের জন্য চুক্তি' (Pact for the Future) নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেখানেই 'বহুপাক্ষিকতাকে ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত করে তোলা' শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বথানেনি বলেন, "ভারতের কাছে বহুপাক্ষিকতাকে ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত করার অর্থ হল, বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলি যেন বর্তমান বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে। এর জন্য নিরাপত্তা পরিষদের ব্যাপক সংস্কার, সাধারণ সভার পুনরুজ্জীবন এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত—এই তিন দিকেই স্থিতিশীল উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ECOSOC-কে আরও শক্তিশালী ভূমিকা দিতে হবে।"
রাষ্ট্রসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পর্বথানেনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা সংঘাত মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ হওয়ায় মানুষের আস্থা কমেছে। তিনি বলেন, "বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা ভয়ঙ্কর সংঘাতে নিরাপত্তা পরিষদ অর্থপূর্ণভাবে হস্তক্ষেপ করতে না পারায় সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘ সম্পর্কে মানুষের ধারণা নেতিবাচক হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কষ্ট লাঘব করতে নিরাপত্তা পরিষদ ব্যর্থ। তাই যে মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রসংঘ তৈরি হয়েছিল—আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা—সেটিই এখন প্রশ্নের মুখে।"
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের এই ব্যর্থতার কারণ এর পুরনো কাঠামো। তাঁর কথায়, "নিরাপত্তা পরিষদের এই দুর্বলতার কারণ স্পষ্ট। ১৯৪০-এর দশকের জন্য তৈরি করা ৮০ বছরের পুরনো একটি কাঠামো দিয়ে আজকের দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রসংঘ সম্মিলিতভাবে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের বিষয়ে একচুলও এগোতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত আলোচনা শুধুমাত্র IGN কাঠামোর অধীনে তৈরি করা বিবৃতি পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ৩৯ থেকে ৪১ নম্বর অ্যাকশন পয়েন্টগুলি মূলত কাগজেই রয়ে গেছে। এটা চলতে পারে না এবং এটা বদলাতেই হবে।"
'ভবিষ্যতের জন্য চুক্তি' প্রসঙ্গে ভারতের দূত বলেন, আন্তঃসরকারি আলোচনার (IGN) বিষয়ে যে অ্যাকশন পয়েন্টগুলি রয়েছে, সেগুলি চুক্তির সহ-সহযোগীদের বদলে তৎকালীন IGN কো-চেয়াররা তৈরি করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই বিধানগুলি নিয়ে ভারতের "গুরুতর আপত্তি" ছিল। তবে, তিনি জানান যে ভারত একটি "গঠনমূলক মনোভাব" নিয়ে চুক্তিটিকে সমর্থন করেছে।
পর্বথানেনি আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের জন্যও ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, "স্থিতিশীল উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে তাদের মূল দায়িত্ব বজায় রেখে আরও বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক, সংবেদনশীল এবং উন্নয়ন-কেন্দ্রিক হতে হবে।"
বিশ্বজুড়ে প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারত জোর দিয়ে জানাচ্ছে যে আমরা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি সহ বিশ্বজুড়ে প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের জন্য সমস্ত আন্তরিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাব। আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা হওয়া উচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত করে তোলা।”