ফের এক দহনজ্বালার সাক্ষী থাকল দেশের এক বিশাল অংশ। ওড়িশার ঝাড়সুগুডায় এদিন তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল সমগ্র দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দক্ষিণবঙ্গ সহ পার্শ্ববর্তী বিহারেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আবহাওয়া দফতরের মতে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহ (Heat Wave) শুরু হয়েছে। কাঠফাটা রোদে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
27
দিনভর লু-এর দাপট
তবে কেবল দিনের বেলা নয়, সূর্যাস্তের পরেও মিলছে না রেহাই। হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেশি থাকছে। ফলে দিনভর লু-এর দাপটের পর রাতেও চরম অস্বস্তি বজায় থাকছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। আবহাওয়া বিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতির কোনও সম্ভাবনা নেই।
37
উত্তর-পূর্ব ও মধ্য ভারতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-শিলাবৃষ্টি
দেশের আবহাওয়ায় এক বৈচিত্র্যময় ও চরমভাবাপন্ন রূপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। একদিকে যখন দেশের কিছু অংশে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে, ঠিক তখনই উত্তর-পূর্ব এবং মধ্য ভারতের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। গত কয়েকদিনে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ায় তছনছ হয়ে গিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, অসম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, বিহার, মধ্যপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুর বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় শক্তিশালী কালবৈশাখীর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে বহু গাছ উপড়ে গিয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত।
অসম এবং মধ্য মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে গত কয়েক ঘণ্টায় ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ এই শিলাবৃষ্টির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। হঠাৎ করেই আকাশ কালো করে আসে এবং সঙ্গে বড় বড় শিলাবৃষ্টি শুরু হয়েছিল।
57
রাজস্থানে অস্বস্তিকর উষ্ণ রাত
রাজস্থানের পরিস্থিতি আবার কিছুটা আলাদা। সেখানে দিনের বেলা প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রার পারদ সেভাবে নামছে না। আবহাওয়া দফতরের পরিভাষায় রাজস্থানে ‘ওয়ার্ম নাইট’ বা উষ্ণ রাত নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাপমাত্রা পর্যাপ্ত পরিমাণে না কমায় রাতের বেলাতেও চরম অস্বস্তিতে ভুগছেন মরুরাজ্যের বাসিন্দারা।
67
কতদিন বজায় থাকবে এইরকম আবহাওয়া?
দক্ষিণবঙ্গে যখন সূর্যের প্রখর তেজে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক তখনই দেশের অন্য প্রান্তের আবহাওয়া দিচ্ছে ভিন্ন বার্তা। ভারতীয় মৌসম ভবন (IMD) জানিয়েছে, দেশের এই দ্বিমুখী আবহাওয়া আপাতত বজায় থাকবে।
77
তাপপ্রবাহ নিয়ে কী বলছে্ মৌসম ভবন?
সমতলে যখন বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ, ঠিক তখনই পাহাড়ের পাদদেশ ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে আছড়ে পড়ছে ঝড়-বৃষ্টি। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বিচিত্র আবহাওয়ার ধরণ—অর্থাৎ সমতলে প্রচণ্ড গরম এবং প্রান্তিক এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি—আগামী কয়েক দিন অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।