
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শুক্রবার 'সমুদ্র মন্থন' প্রকল্পে ছাড়পত্র দিয়েছে। এটি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের অধীনে একটি জাতীয় অফশোর অনুসন্ধান প্রকল্প। ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত এই প্রকল্পে মোট ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের একটি সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের গ্রাহক। প্রতি বছর তেল আমদানিতে প্রায় ১৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৩ লক্ষ কোটি টাকা) খরচ হয়।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিয়েছে যে ভারতের মতো দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতির জন্য জ্বালানি সুরক্ষা কতটা জরুরি। ২০১৪ সাল থেকে সরকার হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান এবং উৎপাদনের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বেশ কিছু কাঠামোগত সংস্কার করেছে। আগে যে সমস্ত এলাকাকে 'নো-গো' জোন হিসেবে ধরা হত, তার ৯৯ শতাংশেরও বেশি এখন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভারতের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের প্রায় দশ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের জন্য অনুসন্ধানের জন্য উপলব্ধ হয়েছে। সরকার প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট থেকে রেভিনিউ শেয়ারিং কন্ট্রাক্টে সরে এসেছে, যার ফলে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কমেছে এবং স্বচ্ছতা বেড়েছে।
'অয়েলফিল্ডস (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট, ২০২৫'-এর মাধ্যমে এই সেক্টরের আইনি কাঠামোকে আধুনিক করা হয়েছে। এর ফলে চুক্তির স্থিতিশীলতা, বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রক পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। 'পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রুলস, ২০২৫' এই সংস্কারগুলিকে কার্যকর করেছে, যা ব্যবসা করার পদ্ধতিকে সহজ করেছে। সরকার সমস্ত কন্ট্রাক্ট ব্যবস্থার জন্য এমপাওয়ার্ড কমিটি অফ সেক্রেটারিজ-এর গঠন এবং কাজের ধারাকে এক করেছে, যাতে সব অপারেটর সমান সুযোগ পায়। পাশাপাশি, ONGC এবং অয়েল ইন্ডিয়ার কাজের প্যারামিটারগুলিকেও নতুন করে সাজানো হয়েছে, যাতে তারা অনুসন্ধানের উপর বেশি জোর দেয়।
'সমুদ্র মন্থন' প্রকল্পটি নীতি সংস্কার থেকে সরে এসে মিশন মোডে কাজ করার একটি পদক্ষেপ। এর প্রথম পর্যায়ে ৩১ মার্চ, ২০৩১ পর্যন্ত ৮৪,০৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অফশোর হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান এবং উৎপাদনকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এই প্রকল্পের মূলত চারটি প্রধান অংশ রয়েছে:
অনুসন্ধান সফল হলে, 'সমুদ্র মন্থন' প্রকল্পের লক্ষ্য হল ভারতের অভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বছরে প্রায় ৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল সমতুল্য (MMTOE) থেকে বাড়িয়ে ৮০ MMTOE করা। দেশের হাইড্রোকার্বন সম্পদের পরিমাণ ১.৬ বিলিয়ন টন তেল সমতুল্য (TOE) থেকে বাড়িয়ে ২.২ বিলিয়ন TOE করাও এর অন্যতম লক্ষ্য। এই অতিরিক্ত উৎপাদনের ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানি বছরে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত কমতে পারে, যা ভারতের জ্বালানি সুরক্ষা শক্তিশালী করবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাবে।