
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে কিছু 'ভুল পথে চালিত বাচ্চা' খুব খারাপ এবং অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মা-কেও গালিগালাজ করা হয়েছে। শুক্রবার এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গালি দিয়ে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না। তাই যারা পথ হারিয়েছে, তাদের সঠিক দিশা দেখানোর জন্য তিনি সবার কাছে আবেদন করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে মোদী বলেন, সমাজে এই ধরনের অশ্রাব্য ভাষা নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা তিনি পুরোপুরি বুঝতে পারছেন। তাঁর কথায়, "আমাদের মেয়েদের মুখে এই ধরনের ভাষা শোনাটা একটা সাংস্কৃতিক ধাক্কার মতো"। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এখন সময় এই বাচ্চাগুলোকে আপন করে নিয়ে সঠিক পথ দেখানোর"।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে তিনি তরুণদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য মন দিয়ে কাজ করেন। তাই তিনি তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
"আজ আপনাদের সঙ্গে কিছু কথা বলতে ইচ্ছে করছে। যন্তরমন্তরে যা হয়েছে, তা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু ভুল পথে চালিত বাচ্চা খুব খারাপ, অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেছে। এমন শব্দ যা কোনও সভ্য সমাজে মানায় না। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে গালি দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মা-কেও গালি দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই কুৎসিত একটা দৃশ্য ছিল," বলেন তিনি।
"তবে আমি বলতে চাই, ছোটবেলায় ভুল হয়, আবার সেই ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকে; এটাই তারুণ্যের ধর্ম। তাই সমাজের ক্ষোভ আমি বুঝতে পারছি। আমাদের মেয়েদের মুখে এমন ভাষা শোনাটা একটা সাংস্কৃতিক ধাক্কা। কিন্তু এখন সময় এই বাচ্চাগুলোকে আপন করে নিয়ে সঠিক পথ দেখানোর। ওরা পথ হারিয়েছে, আর ওদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদেরই কর্তব্য," যোগ করেন মোদী।
মোদী বলেন, তরুণ-তরুণীদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের চক্কর কাটানো বা সমাজে তাদের হেনস্থা করলে পরিস্থিতির কোনও বদল হবে না।
"আমি ওদের ক্ষমা করে দিতে চাই। সমাজেরও এটা মেনে নেওয়া উচিত। আমার মনে একটাই ভাবনা। অনেক সময় আমাদের দাঁতের মধ্যে জিভ কেটে গিয়ে রক্ত বেরোয়, কিন্তু আমরা তো দাঁত ভেঙে ফেলি না; কারণ দাঁত আর জিভ দুটোই আমাদের। এই বাচ্চারাও আমাদেরই। ওদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের কর্তব্য," তিনি বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পথ হারিয়েছে তাদের সঠিক পথে আনা কঠিন কাজ, "কিন্তু এই কাজটা আমাদের করতেই হবে"।
"তাই আমি এই বাচ্চাগুলোকে ডাকছি, আসুন, দেশের জন্য আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই। আসুন নতুন কিছু শিখি এবং নিজেদের ভুল থেকেও শিখি। চলুন নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে বেরিয়ে পড়ি। দেশ এগিয়ে চলেছে এবং আরও এগোবে, আর আমার স্বপ্ন আপনারাও এগিয়ে যান। আমি আপনাদের জন্য বাঁচি; আপনাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করি। আসুন, একসঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাই। ভুল থেকে শিখুন, আর এগিয়ে চলুন," বলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, NEET পেপার ফাঁস কাণ্ড নিয়ে CJP-র বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নয়ডা পুলিশ এক মহিলার বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছিল।
এই বিক্ষোভের পরেই শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। বৃহস্পতিবার সংসদে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ পাশ হয়েছে, যার উদ্দেশ্য পেপার ফাঁস রুখতে আইনি পরিকাঠামো আরও মজবুত করা।