
ভারতকে গোল্ডেন হরাইজন এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল (Golden Horizon Air-Launched Ballistic Missile) অফার করেছে ইজরায়েল, যা সুখোই Su-30MKI যুদ্ধবিমান (Sukhoi Su-30MKI) থেকে উৎক্ষেপণের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যার ফলে ভারত এই ধরনের প্রস্তাব পাওয়া প্রথম এবং একমাত্র দেশ হয়ে উঠেছে। ইজরায়েল এর আগে অন্য কোনও দেশকে এই মিসাইল অফার করেনি। ওপেন-সোর্সের একটি রিপোর্ট অনুসারে, গোল্ডেন হরাইজন এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইলের পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। ওপেন-সোর্সের বিশ্লেষকরা মনে করেন যে গোল্ডেন হরাইজন হাতে পেলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলি শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের অনেক গভীরে আঘাত করতে পারবে। পাল্লার কারণে এই মিসাইল আটকানো কঠিন হয়ে পড়বে শত্রুর যুদ্ধবিমান এবং এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম।
এই মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুই দিনের ইজরায়েল সফরে যাবেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি মউ স্বাক্ষর হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল, লেজার অস্ত্র, দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ মিসাইল এবং ড্রোন। যা দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে পারে। তবে, কোনও বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে না।
গোল্ডেন হরাইজন ALBM কী?
ব্যালিস্টিক মিসাইল একটি উচ্চ-চাপ ট্র্যাজেক্টোরি অনুসরণ করে, যার ফলে তাদের বাধা দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। ওপেন-সোর্স প্রতিরক্ষা ট্র্যাকাররা উল্লেখ করেছেন যে Su-30MKI থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে, তা আরও নির্ভুল ভাবে আঘাত হানতে পারবে। যা বিশ্বের খুব কম বিমান বাহিনীরই রয়েছে। ৮০০ কিলোমিটার আনুমানিক পাল্লার গোল্ডেন হরাইজন দিয়ে সজ্জিত একটি Su-30MKI শত্রুর নাগালে না গিয়েই হামলা করতে পারবে। প্রতিপক্ষের বিমানঘাঁটি, রাডার নেটওয়ার্ক, কমান্ড সেন্টার এবং লজিস্টিক হাবগুলিকে হামলা চালাতে পারবে। যার মধ্যে রয়েছে চিন ও পাকিস্তান।
ভারতের দ্বিমুখী বাস্তবতার জন্য এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
চিনের পিএলএএএফ উত্তর ফ্রন্টে সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে যখন পাকিস্তান পশ্চিমে চিনের থেকে কেনা এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্ককে আরও গভীর করছে। এই প্রেক্ষাপটে, স্ট্যান্ড-অফ প্রিসিশন স্ট্রাইক কোনও বিলাসিতা নয়। এটি একটি অপরিহার্য প্রতিরোধ। গোল্ডেন হরাইজন ALBM আইএএফ-কে যে কোনও সংঘাতের প্রথম দিনেই এগিয়ে রাখবে।
এখন প্রশ্ন হল ভারত আত্মনির্ভর ভারত কাঠামোর অধীনে নিজের ALBM তৈরি করবে কি না। ভারতের ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস-এনজি এয়ার-লঞ্চড মিসাইলের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এছাড়াও ডিআরডিও হাইপারসনিক মিসাইল, অগ্নি-প্রাইম মিসাইল রয়েছে।