
Jharkhand News: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের পথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। সোমবার বিক্ষোভকারীদের বিধানসভায় পৌঁছনো আটকাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এদিন জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের মূল দাবি, একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করতে হবে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীনই এই বিক্ষোভ হয়। ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Chief Minister Hemant Soren) ৫১-তম জন্মদিনের দিনেই এই সংঘর্ষ হওয়ায়। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পুরনো বিধানসভা ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা। সেখান থেকে বর্তমান বিধানসভা ভবনের দিকে এগিয়ে যান তাঁরা। পথে নিরাপত্তারক্ষীরা একাধিক ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা পরপর কয়েকটি ব্যারিকেড পেরিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে শেষ ব্যারিকেডে পৌঁছলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। প্রথমে বিক্ষোভকারীরা তেরঙ্গা হাতে নাচতে থাকেন এবং প্রতিবাদ চালিয়ে যান। কিন্তু তাঁরা বিধানসভার দিকে আরও এগোনোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিধানসভা থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে পৌঁছলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনের অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের মাথা, হাত এবং মুখে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে।
জেপিএসসি-জেএসএসি রিফর্মস মঞ্চের (JPSC-JSSC Reforms Manch) নেতৃত্বে ঝাড়খণ্ডে দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এই আন্দোলন চলছে। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-এ ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিও রয়েছে তাঁদের। এর মধ্যে ১৪-তম ঝাড়খণ্ড পিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিলের দাবিও রয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI) অথবা ঝাড়খণ্ডের বাইরের হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁরা মোট ১৩টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার মাত্র তিনটি পরীক্ষা বাতিল করতে সম্মত হয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।