
Kedarnath Temple: কেদারনাথ যাওয়ার পথে ৯০% পুণ্যার্থী একটা কথা শুনে থাকবেন , ‘বাবা কেদার দর্শন করে নেপালের পশুপতিনাথ না গেলে যাত্রা পূর্ণ হয় না।’ কিন্তু কেন? দুটো মন্দিরের দূরত্ব ৭০০ কিমি। নেপাল আর ভারত আলাদা দেশ। তবুও সম্পর্কটা কী? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মহাভারত আর পঞ্চ কেদারের পৌরাণিক কাহিনীতে।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে গোত্র হত্যার পাপে জর্জরিত পাণ্ডবরা শিবের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শিব তাঁদের উপর রেগে ছিলেন। তাই তিনি গরুর রূপ ধরে কাশী ছেড়ে পালান। পাণ্ডবরা তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে গাড়োয়ালের গুপ্তকাশীতে পৌঁছান। ভীম শিবকে চিনে ফেলেন। শিব তখন মাটির ভেতর ঢুকে যেতে চান। ভীম তাঁর পিঠটা ধরে ফেলেন। লজ্জায় শিবের শরীরের পাঁচটি অংশ পাঁচটি জায়গায় বেরিয়ে আসে। একেই বলে পঞ্চ কেদার।
পঞ্চ কেদারের কাহিনি অনুযায়ী:
১. কেদারনাথ, উত্তরাখণ্ড: শিবের কুঁজ বা পিঠ
২. তুঙ্গনাথ: বাহু
৩. রুদ্রনাথ: মুখ
৪. মদমহেশ্বর: নাভি ও পেট
৫. কল্পেশ্বর: জটা
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়।
কথিত আছে, শিব যখন মাটির নিচ দিয়ে পালাচ্ছিলেন, তখন তাঁর মাথা গিয়ে পড়ে নেপালের কাঠমান্ডুতে। সেই জায়গাতেই তৈরি হয় বিশ্ বিখ্যাত পশুপতিনাথ মন্দির। পশুপতি মানে সমস্ত পশুর অধিপতি। শিব এখানে পশুর রূপে পূজিত হন। তাই ভক্তদের বিশ্বাস, কেদারনাথ শিবের দেহ আর পশুপতিনাথ শিবের মস্তক। দেহ আর মাথা এক না হলে পূর্ণতা আসে না। সেই জন্যই দুটো দর্শন একসঙ্গে করলে মোক্ষ লাভ হয়।
কেদারনাথ মন্দিরের পুরোহিত রাওয়াল বংশের সদস্যরা নেপালের বংশোদ্ভূত। আজও পশুপতিনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নিয়োগ করেন কেদারের রাওয়াল বংশের সদস্যরা। এই প্রথা ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো। দুই মন্দিরের মধ্যে আধ্যাত্মিক যোগ আজও বেঁচে আছে। বিজ্ঞান হয়তো এর প্রমাণ দিতে পারবে না। কিন্তু কোটি কোটি ভক্তের বিশ্বাস এটাই। কেদারে গিয়ে আপনি শিবের কষ্ট দেখেন, পশুপতিনাথে গিয়ে দেখেন তাঁর করুণা। তাই তো বলা হয়, কেদার দর্শন করলে অর্ধেক পুণ্য আর পশুপতিনাথ-সহ করলে পূর্ণ পুণ্য।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।