
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও সাংবাদিক নিধি রাজদানের বিয়ে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। বিয়ের দু'দিনের মধ্যেই এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তুললেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মৌলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রজভি বরেলভি। তাঁর দাবি, ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ নয়। রজভির বক্তব্য, ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। তাঁর দাবি, ওমর আবদুল্লা মুসলিম হলেও নিধি রাজদান মুসলিম নন। তাই তাঁর ব্যাখ্যায় এই বিয়ে শরিয়তসম্মত নয়। বিয়ের আগে নিধি রাজদানকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানো উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। নিধি ইসলাম গ্রহণ করে ইসলামি রীতি মেনে বিয়ে করলে তা শরিয়তসম্মত হতে পারত বলে দাবি তাঁর।
এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ওই ধর্মীয় নেতা বলেন, বিয়ের (নিকাহ) আগে ওমর আবদুল্লার নিশ্চিত করা উচিত ছিল যে নিধি রাজদান ইসলাম গ্রহণ করেছেন কি না। তিনি আরও বলেন, যদি নিধি রাজদান ইসলাম গ্রহণ করতেন এবং তারা ইসলামি রীতি-নীতি মেনে বিয়ে করতেন, তবে শরিয়াহ অনুযায়ী এই বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হতে পারত।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজভি বলেন, ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে, যার অন্যতম হল—বর ও কনে উভয়কেই মুসলিম হতে হবে। তিনি বলেন, "যদি তাদের মধ্যে একজনও মুসলিম না হন, তবে সেই বিয়ে বৈধ বলে গণ্য হতে পারে না।" তিনি এই বিয়ের প্রতি নিজের আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই দম্পতির বিয়ের ঘোষণার পর রাজভির মন্তব্য ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। তবে তার এই ঘোষণা মূলত ইসলামি ধর্মীয় নীতি সম্পর্কে তার নিজস্ব ব্যাখ্যার প্রতিফলন। ভারতে কোনও বিয়ের আইনি বৈধতা নির্ধারিত হয় প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে। কেবল কোনো ধর্মীয় ফতোয়ার উপর ভিত্তি করে তা ঠিক করা যায় না।
গত ৩১ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের কথা প্রকাশ্যে আনেন ওমর আবদুল্লা ও নিধি রাজদান। ওমর তাঁদের একাধিক ছবি পোস্ট করে নতুন যাত্রা শুরুর কথা জানান। জানা গিয়েছে, ৩০ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের বিয়ে হয়েছে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে।