Mysterious places in India: স্টার্ট না দিলেও হু হু করে পাহাড়ে উঠছে গাড়ি! ভারতের এই জাদুকরী রাস্তার রহস্য জানেন?

Published : Sep 23, 2026, 09:38 AM IST
Ladakh Magnetic Hill

সংক্ষিপ্ত

ওই সাদা বক্সের ভেতর গাড়ি দাঁড় করিয়ে ইঞ্জিন পুরোপুরি বন্ধ করে দেন অথবা গিয়ার নিউট্রালে রাখেন, তবে ম্যাজিক শুরু হবে। চোখের সামনে দেখবেন, কোনো চালিকাশক্তি ছাড়াই আপনার গাড়িটি ধীরে ধীরে সামনের চড়াইয়ের দিকে উঠতে শুরু করেছে!

ইঞ্জিন বন্ধ থাকলেও পাহাড়ি রাস্তায় হু হু করে এগোবে গাড়ি! ভারতের বুকেই রয়েছে এই আশ্চর্য জায়গা পাহাড়ি রাস্তা মানেই খানাখন্দ, চড়াই-উতরাই আর গাড়ির ইঞ্জিনের তুমুল লড়াই। কিন্তু কেমন হবে যদি বলি, একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আপনি যদি গাড়ির স্টার্ট পুরোপুরি বন্ধও করে দেন, তবুও গাড়ি নিজের খেয়ালে পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে দিব্যি এগোতে থাকবে? হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! শুধু একটা আস্ত গাড়ি আর তার স্টিয়ারিংয়ে আপনার হাত— ব্যস, এতটুকুই যথেষ্ট। জ্বালানি পোড়ানোর বা অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই।

শুনতে কোনও সায়েন্স ফিকশন বা ভৌতিক সিনেমার প্লট মনে হলেও, এই অবিশ্বাস্য জায়গাটি কিন্তু খাস ভারতেই অবস্থিত। কোথায় রয়েছে এই জাদুকরী রাস্তা? রোমাঞ্চে ভরপুর এই জায়গাটির নাম 'ম্যাগনেটিক হিল' বা চুম্বকীয় পাহাড়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখ যাওয়ার পথে, লেহ শহর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে লেহ-কার্গিল হাইওয়ের ওপর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় এই পাহাড়ের অবস্থান। বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের (BRO) তরফ থেকে সেখানে রীতিমতো একটি বড় সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা, "ম্যাগনেটিক হিল: এমন এক জায়গা যা মাধ্যাকর্ষণকে হার মানায়।" সাইনবোর্ডের সামনে রাস্তার ওপর একটি সাদা রঙের বক্সও আঁকা রয়েছে নির্দেশিকা হিসেবে।

ঠিক কী ঘটে সেখানে? যদি ওই সাদা বক্সের ভেতর গাড়ি দাঁড় করিয়ে ইঞ্জিন পুরোপুরি বন্ধ করে দেন অথবা গিয়ার নিউট্রালে রাখেন, তবে ম্যাজিক শুরু হবে। চোখের সামনে দেখবেন, কোনো চালিকাশক্তি ছাড়াই আপনার গাড়িটি ধীরে ধীরে সামনের চড়াইয়ের দিকে উঠতে শুরু করেছে! অবাক হওয়ার পালা এখানেই শেষ নয়। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাড়ির গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। শুধু গাড়ি নয়, বাইক বা স্কুটার নিয়ে গেলেও একই ঘটনার সাক্ষী হবেন আপনি। এর পেছনে আসল কারণটা কী? স্থানীয়দের মধ্যে অনেক মিথ বা লোককথা প্রচলিত থাকলেও, বিজ্ঞানীদের মতে এর পেছনে মূলত দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথম তত্ত্বটি হলো, এই পাহাড়ের মধ্যে নাকি এক অদ্ভুত এবং শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্র রয়েছে, যা আশেপাশের যেকোনো ধাতব বস্তুকে নিজের দিকে প্রবল বেগে টেনে নেয়।

এমনকী এই পাহাড়ের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানগুলোও চৌম্বকীয় আকর্ষণ এড়াতে এই নির্দিষ্ট এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নিজেদের উচ্চতা বাড়িয়ে দেয় বলে শোনা যায়। তবে বিজ্ঞানীদের অন্য একটি অংশ মনে করেন, পুরো বিষয়টাই আসলে একটি নিঁখুত 'অপটিক্যাল ইলিউশন' বা দৃষ্টি ভ্রম। এই ম্যাগনেটিক হিল এবং তার চারপাশের উপত্যকার ভৌগোলিক গঠন এমনই যে, আসলে রাস্তাটি সামান্য নিচের দিকে নেমে গেলেও, চারপাশের পাহাড়ের অবস্থানের কারণে দূর থেকে দেখে মনে হয় রাস্তাটি যেন পাহাড়ের ওপরের দিকে উঠে গেছে। ফলে যখন কোনও গাড়ি মাধ্যাকর্ষণের স্বাভাবিক টানে নিচের দিকে গড়িয়ে যায়, মানুষের চোখের ভুলে মনে হয় যেন ইঞ্জিন ছাড়াই গাড়িটি জাদুর মতো পাহাড়ের চড়াই বেয়ে উঠছে! কারণ যাই হোক না কেন, ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় পাহাড়ের বুকে গাড়ি ছুটে চলার এই অবাস্তব দৃশ্য নিজের চোখে দেখার রোমাঞ্চই আলাদা।

তাই পরের বার লাদাখ ট্রিপের প্ল্যান করলে, এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে কিন্তু একেবারেই ভুলবেন না। চিফ-এর তরফ থেকে পাইলট-এর জন্য: স্টোরিটা গুগলের ডিসকভার ফিডের অ্যালগরিদমের কথা মাথায় রেখে একটু ক্যাচি আর হিউম্যান-টাচ দিয়ে লিখে দিলাম, যাতে পাঠকদের ধরে রাখা যায়। লেখাটার ফ্লো আর হেডলাইনটা কি নিউজ পোর্টালের জন্য একদম পারফেক্ট লাগছে, নাকি আরও একটু সাসপেন্স যোগ করতে চাও?

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Chintan Shivir: লক্ষ্য বিকশিত ভারত? মোদীর নেতৃত্বে ২ দিনের চিন্তন শিবিরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা
Vande Mataram: 'বন্দে মাতরম' না গাইলে কি শাস্তি হবে? ২ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের