
'ইন্ডিয়ান পোর্টস অ্যাক্ট, ২০২৫'-এর অধীনে পারাদ্বীপ বন্দরকে 'মেগা পোর্ট' হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। আর এর হাত ধরেই ভারতের পূর্ব উপকূলের একমাত্র মেগা বন্দর হয়ে উঠল পারাদ্বীপ।
'ইন্ডিয়ান পোর্টস অ্যাক্ট, ২০২৫'-এর ৭৩ নম্বর ধারায় বলা পরিকাঠামোগত ও কাজের সব শর্ত পূরণ করেছে পারাদ্বীপ। এরপরই ২০২৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রক এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। পারাদ্বীপের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্দর 'মেগা পোর্ট'-এর তকমা পেয়েছে। সেগুলি হল— দীনদয়াল বন্দর (কান্ডলা), জওহরলাল নেহরু বন্দর (নভা শেভা) এবং মুন্দ্রা বন্দর। এর মধ্যে মুন্দ্রাকে প্রধান বন্দর ছাড়া অন্য একটি ক্যাটেগরিতে রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব প্রবীণ পি নায়ার এই বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেন। 'গেজেট অফ ইন্ডিয়া (এক্সট্রাঅর্ডিনারি)'-তে প্রকাশের দিন থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
ভারতের পূর্ব উপকূলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান গেটওয়ে হল পারাদ্বীপ বন্দর। এই নতুন তকমা তাদের মুকুটে নতুন পালক যোগ করল। আশা করা হচ্ছে, এই স্বীকৃতির ফলে বন্দরের পরিকাঠামো, কাজের ক্ষমতা এবং সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে।
পারাদ্বীপ বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারপার্সন সুশান্ত কুমার পুরোহিত এই সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং ওই মন্ত্রকেরই রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকেও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। পুরোহিত বলেন, পারাদ্বীপ বন্দরের উন্নয়নের পথে এই 'মেগা পোর্ট' তকমা একটা বিরাট মাইলফলক। পরিকাঠামোর উন্নয়ন, কাজের গতি বাড়ানো এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে এই বন্দর আগামী দিনে আরও বড় ভূমিকা নেবে।
ভৌগোলিক অবস্থান, আধুনিক পরিকাঠামো এবং কার্গো সামলানোর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার জন্য পারাদ্বীপ বন্দর এমনিতেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটি বড় ভূমিকা পালন করে। 'মেগা পোর্ট' তকমা ভারতের সামুদ্রিক পরিকাঠামোয় এর গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। আধুনিক, দক্ষ এবং বিশ্বমানের সামুদ্রিক গেটওয়ে হিসেবে এর উন্নতিতে এই স্বীকৃতি নতুন মাত্রা যোগ করবে।