
PM Modi On Neet Scam : দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস আটকাতে কেন্দ্র সরকারের পেশ করা 'পাবলিক এগজামিনেশনস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়ে গেছে। লোকসভায় পাশ হওয়ার ঠিক পরের দিন, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও এই বিলটি অনুমোদন পেয়েছে। এবার সরকারি আইন হিসেবে চালু হওয়ার জন্য এটিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সংসদে এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এর প্রশংসা করে বলেছেন, "এই আইন দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং স্বচ্ছ করে তুলবে।" গত এক সপ্তাহে এই নিয়ে চতুর্থবার, তিনি ইনস্টাগ্রামে মাঝরাতে রিলস পোস্ট করে জেন-জি প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেন।
পরীক্ষায় দুর্নীতি রোধ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী গত এক সপ্তাহে চতুর্থবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তিনি বলেছেন, 'পাবলিক এগজামিনেশনস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬' দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া প্রহ্লাদ যোশী এই বিল পাশ হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'X'-এ লিখেছেন, "চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ন্যায্য ও স্বচ্ছ পরীক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি বিশাল পদক্ষেপ।" তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আমাদের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলা করার চেষ্টা করবে বা পরীক্ষার দুর্নীতিতে জড়াবে, সেইসব ব্যক্তি বা চক্রকে কোনোভাবেই ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এই আইন সেই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।"
৫ থেকে ১০ বছরের জেল: পরীক্ষার দুর্নীতি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জন্য নতুন আইনে ন্যূনতম ৫ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংগঠিত অপরাধের জন্য ১০ কোটি টাকা জরিমানা: সংগঠিতভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যবসা চালানো মাফিয়াদের জন্য ন্যূনতম ৭ বছরের জেল এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিরাট অঙ্কের জরিমানা করা হবে।
ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট স্থাপন: এই আইনের অধীনে অপরাধের বিচারের জন্য প্রতিটি জেলার সেশনস কোর্টকে 'বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট' হিসেবে নিয়োগ করার ক্ষমতা রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে দেওয়া হয়েছে।
৩ মাসের মধ্যে বিচার শেষ: চার্জশিট জমা দেওয়ার পর থেকে প্রতিদিন শুনানি (Day-to-day hearing) করে ৩ মাসের মধ্যে মামলার রায় দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF): দেশের যেকোনো প্রান্তে প্রয়োজনে পরীক্ষার দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য কেন্দ্র সরকার একটি 'বিশেষ টাস্ক ফোর্স' গঠন করতে পারবে, এই সংশোধনী বিলে সেই সংস্থানও রাখা হয়েছে।
Parliament passes a Bill that makes our examination system more robust! pic.twitter.com/OEvLKXoUaf
— Narendra Modi (@narendramodi) July 30, 2026