পশ্চিম এশিয়ার সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-র চতুর্থ বৈঠক হল। জ্বালানি ও সারের জোগান স্বাভাবিক রাখা এবং সংকটপূর্ণ এলাকায় কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার সংকট ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-র চতুর্থ বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
এই সংকট ভারতের জন্য বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই প্রধানমন্ত্রী একটি সামগ্রিক সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি বা "হোল-অফ-গভর্নমেন্ট" অ্যাপ্রোচের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেন, যাতে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
বৈঠকে ক্যাবিনেট সচিব বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান। তিনি বলেন, পেট্রোলিয়াম পণ্য, যেমন এলএনজি/এলপিজি এবং সারের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান যে এলপিজি আমদানির জন্য ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের জোগান ও মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে।
পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল থাকায় সেন্ট্রাল পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইজ (CPSE) শোধনাগারগুলি তাদের ক্ষমতার ১০০ শতাংশেরও বেশি ব্যবহার করে কাজ করছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যার ফলে পিএনজি সংযোগের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে।
সরকার ন্যাশনাল গ্যাস গ্রিড সম্প্রসারণ, এলএনজি আমদানি ও রিগ্যাসিফিকেশন পরিকাঠামো বৃদ্ধি, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং পাইপলাইন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অর্ডার, ২০২৬-এর অধীনে সময়মতো পাইপলাইন সংযোগের অনুমোদন দিয়ে শিল্পে এলপিজি-র বিকল্প ব্যবহারে সাহায্য করছে।
বৈঠকে আসন্ন রবি শস্যের মরশুমের জন্য সারের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করা হয় এবং সারের বিকল্প উৎস নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংকটপূর্ণ অঞ্চলে দেশি ও বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কর্মরত নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী নাবিক এবং তাঁদের পরিবারকে সময়মতো তথ্য, জরুরি সহায়তা এবং কাউন্সেলিং দেওয়ার জন্য একটি ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের প্রভাব থেকে দেশের নাগরিক এবং বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের রক্ষা করার জন্য সবরকম চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করতে সৌরশক্তির মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং অন্যান্য অ-জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর জোর দেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রী শেষে বলেন, এই সংকট থেকে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় "হোল-অফ-গভর্নমেন্ট" দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে হবে। নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমস্ত ঘটনার ওপর নিয়মিত নজরদারির জন্য একটি একীভূত ও সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করা উচিত।


