উত্তর থেকে দক্ষিণ- প্রবল গরমে পুড়ছে প্রায় গোটা দেশ। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করেছে। গরমে অতিষ্ট মানুষ। এই অবস্থায় ফ্যান আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিয় যন্ত্রই একমাত্র স্বস্তি দিতে পারে।
210
বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা
এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রকের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'যদিও আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে প্রস্তুত, তীব্র গ্রীষ্মের কারণে আসুন আমরা সবাই বিচক্ষণতা ও সুবিবেচনার সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার চেষ্টা করি'। তাতেই আশঙ্কা বাড়ছে।
310
জ্বালানির পরে এবার বিদ্যুৎ!
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি সোনা কিনতে নিষেধ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস অপচয় না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরই হুহু করে দাম বাড়ছে পেট্রোল, ডিজেলের। তাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিজ্ঞপ্তির পরেই সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবার বিদ্যুতের সংকট দেখা দিতে পারে দেশে।
রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও তুঙ্গে। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ২৭০ গিগাওয়াট। যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। দেশের বেশ কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাটও দেখা গ দিয়েছে। তাই সেই কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করছে বলেও মনে করেছে অনেকে।
510
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা
মন্ত্রক জানাচ্ছে, ১৮ মে বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ২৫৮ গিগাওয়াট। মাত্র তিনদিনে, অর্থাৎ ২১ মে তা হয়েছে ২৭১ গিগাওয়াট। AC-র চাহিদাও তুঙ্গে। গত এক বছরে ভারতে ১ কোটি ৪০ লক্ষ এসি বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে বছরে দেড় থেকে দু’কোটি এসি যুক্ত হচ্ছে।
610
বৃহস্পতিবার রাতেও বিদ্যুতের ঘাটতি
জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্রিড-ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভারতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল প্রায় ২.৫৭ গিগাওয়াট।
710
বিদ্যুতের বিকল্প কী?
এই দুঃসহ আবহাওয়ার মধ্যেই বিদ্যুৎ সকংট যদি দেখা যায় তাহলে তার বিকল্প কী হতে পারে? তাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বর্তমানে অনেকেই কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে। বিহারে রেশনে কয়লা বন্টনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যুতের বিকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই সৌর বিদ্যুৎ বা ইনভার্টারের ওপরেই ভরসা রাখছেন।
810
কয়লার চাহিদাও বাড়ছে
দেশের প্রথমসারির ১৮৯টি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কয়লার স্টক কমছে। এক বছর আগে মে মাসে কয়লার স্টক ছিল ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টন। এ বছর ২০ মে’র হিসাবে কয়লা রয়েছে ৫ কোটি ১০ লক্ষ টন। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ স্টক থেকে কমে হয়েছে ৬৮ শতাংশ।
910
কয়লার স্টকেও ঘাটতি
সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথরিটির অভিমত হল, এই পরিস্থিতিতে দিনে ২৭০ গিগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলে স্টক ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টন থাকতেই হবে। অথচ রয়েছে ৫ কোটি ১০ লক্ষ টন।
1010
বিদ্যুৎ মন্ত্রকের বার্তা
বিদ্যুৎ মন্ত্রক শুক্রবার বলেছে, বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরকার অবশ্যই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। সেই আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশবাসীকে বলা হচ্ছে, তারা যেন বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।