কলকাতা পুরসভার ১৭ নোটিসে কি TMC-তে কোণঠাসা অভিষেক? জোর জল্পনা বঙ্গ রাজনীতিতে
Abhishek Banerjee: কলকাতা পুরসভার ১৭টি নোটিস অস্বস্তি বাড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে পাঠানো নোটিস নিয়ে তৃণমূল নেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট তারা দূরত্ব বাড়াচ্ছেন দলের সর্বভারতীয় সম্পাদকের থেকে।

তৃণমূলের অন্তঃসার শূন্য দশা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে গত ৪ মে। এখনও ১ মাসও হয়নি। তারই মধ্যে ক্রমশই প্রকট হচ্ছে তৃণমূলের অন্তঃসার শূন্য দশা। দলের ছোট-বড়-মেজো নেতারা এবার সরাসরি মুখ খুলতে শুরু করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে।

কলকাতা পুরসভার নোটিশ
দলের অন্দরে যখন অভিষেক-ক্ষোভ বাড়ছে ঠিক তখনই গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত অবস্থা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে পাঠানো কলকাতা পুরসভার নোটিস। যা নিয়ে দলের রাশ আরও শিথিল হচ্ছে। তেমনই মনে করছে তৃণমূলের একাংশ।
নোটিশ বিতর্ক
রাজ্য সরকার বদল হয়েছে। কিন্তু কলকাতা পুরসভা এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই রয়েছে। আর তাই প্রশ্ন তৃণমূলের দখলে থাকা পুরসভা থেকে কী করে অভিষেকের কাছে নোটিস যায়? যা নিয়ে দলের অন্দরেই আলোচনা তুঙ্গে।
অভিষেকের রাশ আলগা হচ্ছে!
বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক। পাশাপাশি ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। কিন্তু তারপরেও তাঁর হাতে থাকা দলের রাশ যে ধীরে ধীরে আলগা হচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। দলের নিচু তলার কর্মীরা ফল প্রকাশের পরপরই অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এবার দলের ওপরের অংশও সরব হচ্ছে।
অভিষেককে ১৭টা নোটিশ
কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের পাঠানো ১৭টা নোটিস ইতিমধ্যেই গেছে অভিষেকের কাছে। যারমধ্যে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্সও। তাঁর ও তাঁর পরিবহারের সদস্যদের সম্পত্তির বিষয়েও নোটিস পাঠানো হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, 'ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টির তদন্ত হবে।' তারপরই অভিষেকের কাছে যায় নোটিস। ১৭টি নোটিশের ১৪টাই গেছে ৯ নম্বর বোরো থেকে। যা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।
দূরত্ব তৈরি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ও আত্মীয়দের সম্পত্তির নামে কলকাতা পুরসভা নোটিস দেওয়ার পর থেকেই অভিষেকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতারা। কে নোটিশ পাঠিয়েছে? তাই নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। নোটিস-কাণ্ড থেকে দায় ঝাড়তে শুরু করেছেন তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা।
ফিরহাদ হাকিমের প্রতিক্রিয়া
'মেয়রকে জানানোর কথাই নয়। তার কারণ হচ্ছে, নোটিসটা হচ্ছে বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের।" কখনও আবার মেয়রের গলায় কার্যত শোনা যায় ক্ষোভের সুর।'তিনি আরও বলেন, 'ওঁর (অভিষেকের) ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব না। কারণ আমি কোনও ইজারা নিইনি।'
কাউন্সিলরের প্রতিক্রিয়া
নোটিস-পর্বের মধ্যেই বোরো কমিটির চেয়ারপার্সেনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি অবশ্য বলেছেন, 'ধামাচাপা ঠিক নয়। এটা কেন হল, কীভাবে হল, কে করল, কী ব্য়াপার হল? তাঁকে সাসপেন্ড করা হোক, তুমি তো বরো কমিটির চেয়ারপার্সন। আমি বললাম আমি হতে পারি বরো কমিটির চেয়ারপার্সন, কিন্তু আমি কীভাবে করব? এই জিনিসগুলো আমার এক্তিয়ারে পড়ে না।'
কুণাল আর শোভনদেবের প্রতিক্রিয়া
কুণাল ঘোষের মন্তব্য-এই বাড়ি, এই বিষয়টা, বাড়ি, নোটিস ইত্যাদি যার নাম জড়িয়েছে, তিনিই উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া - অভিষেক বুঝবে, আমি কী করে বলব ? ববি কিছু জানতে পারে, আমি জানি না।
অভিষেকের প্রতিক্রিয়া
কালীঘাটে কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অভিষেক বলেন,'নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন বাড়ির কোন অংশটা অবৈধ। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, উত্তর দেব।'তিনি রীতিমত মেজাজ হারান। যদিও পাশে রয়েছেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এভাবে নোটিশ দিয়ে বা়ড়ি ভাঙা যায় না। তারজন্য হিয়ারিং হয়। পদ্ধতি রয়েছে। তবে এই ব্যাপারে পিসি-ভাইপো কেউই অবশ্য পাশে পাননি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের।

