
Raghav Chadha Slams Kejriwal: রাজ্যসভার ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরানোর পর এবার AAP নেতৃত্বকে সরাসরি তোপ দাগলেন রাঘব চাড্ডা। তাঁকে কেন চুপ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে? সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে এমন প্রশ্নই করলেন রাঘব। রাঘবের দাবি, তিনি বরাবর সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া জনতার সমস্যা নিয়েই সংসদে সরব হয়েছেন। তাহলে কার সমস্যা হল, যে তাঁকে চুপ করানো হল! এবার সরাসরি আম আদমি পার্টি-কে তোপ দাগলেন দলের রাজ্যসভা সাংসদ রাঘব চাড্ডা। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বেশ কয়েক মাস ধরেই নানা ইস্যুতে রাঘবের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। লোকসভা ভোটের আগে কেজরিওয়াল জেলে যাওয়ার সময়েও চুপ ছিলেন রাঘব। তখন থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার সাংসদ স্বামীর রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে।
রাঘবকে ডেপুটি দলনেতার পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভার সচিবালয়ে চিঠি পাঠায় আপ। সেই চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে ভাষণ দেওয়ার জন্য দলের নির্দিষ্ট সময় তাঁর জন্য বরাদ্দ করার প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার অনুরোধও জানানো হয় সচিবালয়কে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাঘব। সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও বার্তায় রাঘব অভিযোগ করে বলেন, দলীয় নেতৃত্ব রাজ্যসভাকে অনুরোধ করেছে যেন তাঁকে আর বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়া হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এতদিন সংসদে তিনি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথাই তুলে ধরেছেন, যেমন বিমানবন্দরে উচ্চমূল্যের খাবার, গিগ কর্মীদের সমস্যা বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিষয়। তাঁর মতে, এসব বিষয়ে কথা বলায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছেন, তাহলে এতে দলের ক্ষতি কোথায়? কেন তাঁকে চুপ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে,এমন প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
কেজরিওয়ালকে তোপ দেগে রাঘব যে আপ ছাড়া সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন রাঘব তাহলে এবার কী করতে চলেছেন। বিশেষজ্ঞমহলের ধারনা, সংসদে বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে সম্প্রতি বেশ ঘনিষ্ঠ থাকা রাঘব চাড্ডা হয়তো গেরুয়া শিবিরেই নাম লেখাবেন। পঞ্জাবের ৩৭ বছরের রাঘবকে পাশে পেলে বিজেপির স্বর্ণমন্দিরের রাজ্যে বড় সুবিধা হতে পারে। আগামী বছর পঞ্জাবে বিধানসভায় ভোট। তার আগে শিক্ষিত, সুবক্তা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তরুণ মুখ রাঘবকে পাশে পেলে আপ শাসিত একমাত্র রাজ্য পঞ্জাবে ভাল কিছু করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। এমনিতে উত্তর ভারতের এই রাজ্য়ে একেবারেই সুবিধা করতে পারছে না বিজেপি। সেখানে স্থানীয় মুখেরও অভাব রয়েছে। রাঘব কি গেরুয়া শিবিরের সেই শূন্যস্থান ভরাট করতে পারবেন? এখন দেখার সব কিছু হিসেব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত রাঘব বিজেপিতে যোগদান করেন কি না।