
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক আচমকাই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রশ্ন করে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তাঁকে কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন। পাক সাংবাদিকের ওই উসকানিমূলক প্রশ্নের পাল্টা তোপ দেগে জয়শঙ্কর বলেন, "একটা সন্ত্রাসবাদী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে।" অনুষ্ঠান শুরুর আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে এটি একটি 'রিমার্কস-ওনলি' বা শুধুমাত্র মন্তব্য করার ব্রিফিং। কিন্তু শেষের দিকে ওই পাক সাংবাদিক হঠাৎ করেই মাঝখানে কথা বলে ওঠেন এবং একটি অর্থহীন প্রশ্ন করে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আমেরিকার নিউয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ৮১তম অধিবেশন চলছে। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানেই পাকিস্তানের সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, 'পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মদত দেোয়া কবে বন্ধ করবে ভারত সরকার?' এই প্রশ্ন শুনেই মেজাজ হারান বিদেশমন্ত্রী। তিনি পাল্টা ওই সাংবাদিকের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। তিনি পাল্টা বলেন, 'একটা সন্ত্রাসবাদী দেশ আবার আমাকে প্রশ্ন করছে?' এরপরেই পাকিস্তানি সাংবাদিক তর্ক শুরু করেন। কিন্তু তার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনই মনে করেননি জয়শঙ্কর। তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে, বেরিয়ে যায়ন। তাঁরই সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধি দলও উঠে বেরিয়ে যায়। সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশন।
'গ্রুপ অফ ফ্রেন্ডস অন সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অফ শিপিং অ্যান্ড সিফেয়ারার্স' নিয়ে এই সাংবাদিক বৈঠক হচ্ছিল। সেখানে জয়শঙ্করের সঙ্গে ছিলেন লাইবেরিয়া প্রজাতন্ত্রের বিদেশমন্ত্রী সারা বেইসোলো নিয়ান্তি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে বর্তমানে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। শনিবার তিনি উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। এই সফরে তিনি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বারবার 'বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ' নেওয়ার কথা বলে আসছে ভারত। পহেলগাম জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত 'অপারেশন সিন্দুর' চালিয়েছিল। ওই হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার্থে ভারতের নেওয়া পদক্ষেপকে অনেক দেশই স্বীকৃতি দিয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) প্রেস বিবৃতি-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামের নথিতেও পহেলগাম জঙ্গি হামলার কড়া নিন্দা করা হয়েছে। পহেলগাম হামলায় জড়িত ছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)। ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই মার্কিন প্রশাসন এই সংগঠনটিকে ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন (FTO) এবং স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট (SDGT) হিসেবে ঘোষণা করে।
গত বছরের জুলাই মাসে ৩৬তম ইউএনএসসি ১২৬৭ স্যাংশনস কমিটির মনিটরিং রিপোর্টেও পহেলগাম জঙ্গি হামলার সঙ্গে টিআরএফ-এর যোগসূত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে ভারতের লাগাতার চেষ্টার ফলেই পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া বহু জঙ্গি সংগঠন এবং ব্যক্তির নাম কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। জঙ্গিদের আর্থিক মদত বন্ধ করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ব্যর্থতার কথাও ভারত বারবার তুলে ধরেছে। এর ফলে পাকিস্তানের মাটি থেকে চলা জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলির ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি বজায় রয়েছে।
ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ (FATF)-এর ধূসর তালিকায় পাকিস্তানকে তিনবার রাখা হয়েছিল। শেষবার তারা এই তালিকায় ছিল ২০১৮ সালের জুন থেকে ২০২২ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। এফএটিএফ-এর কড়া নজরদারির কারণেই পাকিস্তান বাধ্য হয়ে বেশ কয়েকজন পরিচিত জঙ্গির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় জড়িত জঙ্গিরাও রয়েছে।