দেশের পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (PDS) বা রেশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। বুধবার সরকার ২৫,৫৩০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হল রেশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাজনক করে তোলা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি অ্যাক্ট (NFSA)-এর অধীনে থাকা ৮১ কোটির বেশি উপভোক্তার কাছে ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি (CCEA) এই নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। দুটি পুরনো প্রকল্পকে একসঙ্গে মিলিয়ে 'স্কিম ফর অ্যাসিস্ট্যান্স ইন রেশন ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হ্যান্ডলিং-ইনকাম উইথ অটোমেশন ইন পিডিএস' (SARTHAK-PDS) নামে এটি চলবে ২০৩১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল একটি "একীভূত, নাগরিক-কেন্দ্রিক, বুদ্ধিমান এবং ইন্টারঅপারেবল পিডিএস পরিকাঠামো" তৈরি করা। এর মাধ্যমে একেবারে শেষ স্তরের মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছনো নিশ্চিত করা হবে, দুর্নীতি কমানো হবে এবং খাদ্য সুরক্ষার প্রতি দেশের দায়বদ্ধতা আরও জোরদার হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রকল্পের গুরুত্ব হল, সরকার প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেশন পরিষেবাকে আরও নির্ভরযোগ্য এবং সহজলভ্য করতে চাইছে। এই উদ্যোগের ফলে খাদ্যশস্যের ট্র্যাকিং উন্নত হবে, জিনিস পৌঁছতে দেরি কম হবে, উপভোক্তা শনাক্তকরণ আরও শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক ভাষায় অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হবে।
সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে NFSA-এর অধীনে থাকা "৮১.৩৫ কোটি মানুষ" উপকৃত হবেন। সময়মতো উন্নত মানের খাদ্যশস্য সরবরাহ করে নাগরিকদের খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার "সামাজিক ও আইনি প্রতিশ্রুতি" সরকার আবারও এই লক্ষ্যের ওপর জোর দিয়েছে।
প্রযুক্তিগত সংস্কারের অংশ হিসেবে, এই প্রকল্পে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), মেশিন লার্নিং (ML), ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP) এবং ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পিডিএস-এর কাজকর্ম আধুনিক করা হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই সিস্টেমে "রিয়েল-টাইম মনিটরিং, AI-চালিত অভিযোগ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা, এবং ডেটা-ভিত্তিক নজরদারির জন্য রাজ্য স্তরে কমান্ড কন্ট্রোল সেন্টার" থাকবে। এর পাশাপাশি "স্ট্যান্ডার্ড আর্কিটেকচার এবং ইউনিফায়েড ডেটাবেস" ব্যবহার করে খাদ্য বণ্টন নেটওয়ার্কে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো হবে।
সরকার স্মার্ট পিডিএস-এর পরবর্তী পর্যায়ে নির্মল (NIRMAL), আশা (ASHA) এবং সক্ষম (SAKSHAM) নামে AI-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের কথাও বলেছে।
বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, আশা (ASHA) প্ল্যাটফর্মটি একটি বহুভাষিক AI অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা ফোন কল, হোয়াটসঅ্যাপ, আইভিআরএস এবং চ্যাটবটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের ভাষায় অভিযোগ জানাতে ও সাহায্য চাইতে পারবেন।
অন্যদিকে, সক্ষম (SAKSHAM) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গাড়ির ট্র্যাকিং, কিউআর-কোড ট্রেসেবিলিটি, রুট অপটিমাইজেশন এবং চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে। এর মূল লক্ষ্য হল খাদ্যশস্য পরিবহনের সময় অপচয় কমানো।
সরকার জানিয়েছে, এই সংস্কারের ফলে খাদ্যশস্য পরিবহণের দূরত্ব ১৫-৫০ শতাংশ কমবে, যা লজিস্টিকসকে আরও দক্ষ করে তুলবে এবং স্থানীয় স্তরে সংগ্রহে উৎসাহ দেবে। এই পদক্ষেপগুলির ফলে বছরে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং কার্বন নিঃসরণ ৩৫ শতাংশ কমবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে রাজ্যের মধ্যে খাদ্যশস্য পরিবহণ ও হ্যান্ডলিং এবং ফেয়ার প্রাইস শপ (FPS) ডিলারদের মার্জিনের জন্য আর্থিক সহায়তাও আগের মতোই বহাল থাকছে। সরকার জানিয়েছে, এর ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে একেবারে শেষ স্তরের ডেলিভারি নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে। FPS ডিলারদের মার্জিনও বাড়ানো হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সরকার গত এক দশকে পিডিএস ইকোসিস্টেমে একাধিক ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আধার লিঙ্ক করা, ফেয়ার প্রাইস শপগুলিতে ই-পিওএস অটোমেশন এবং সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অনলাইন সাপ্লাই-চেন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।