প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য টেট (Teacher Eligibility Test) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। শুক্রবার রায়ে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে, শীর্ষ আদালত TET-এ উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট, ২০২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট, ২০২৮ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। তবে একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে যে, এরপর আর কোনও সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে না।
প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য টেট (Teacher Eligibility Test) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। শুক্রবার রায়ে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে, শীর্ষ আদালত TET-এ উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট, ২০২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট, ২০২৮ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। তবে একই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছে যে, এরপর আর কোনও সময়সীমা বৃদ্ধি করা হবে না। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, TET-এর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই এমন শিক্ষকদের চাকরিতে বহাল থাকার অনুমতি দিলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এই রায়ের ফলে সারা দেশজুড়ে ২০ লক্ষেরও বেশি শিক্ষক প্রভাবিত হবেন।

বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি মনমোহনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ বিভিন্ন রাজ্য সরকার, শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষকদের দায়ের করা ৬৫টিরও বেশি রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে। এসব পিটিশনে আদালতের ২০১৫ সালের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানো হয়েছিল।
RTE আইনে ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জনের বিধান আগেই বিদ্যমান রয়েছে
আদালত উল্লেখ করেছে যে, TET পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সময় ও সম্পদের প্রয়োজন হয়। আর ঠিক এই কারণেই আদালত নির্দেশ পালনের সময়সীমা দু বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করেছে। এই মামলাটি মূলত সেইসব শিক্ষকদের নিয়ে, যাঁরা 'শিক্ষার অধিকার আইন, ২০০৯' (RTE Act) কার্যকর হওয়ার আগেই শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং যাঁদের অবসরের আগে চাকরিকাল হিসেবে এখনও পাঁচ বছরের বেশি সময় অবশিষ্ট রয়েছে। ২০১৫ সালের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, এই ধরনের শিক্ষকদের ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫-এর পরবর্তী দু বছরের মধ্যে TET-এ উত্তীর্ণ হতে হবে। বেঞ্চ জানিয়েছে যে, RTE আইনে আগেই এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার আওতায় কর্মরত শিক্ষকদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করা বাধ্যতামূলক। আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, আইনটি কার্যকর হওয়ার সময় যেসব শিক্ষক ইতিমধ্যেই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। আর এই বিষয়টিই সংসদের সেই অভিপ্রায়কে প্রতিফলিত করে যে—সকল শিক্ষককেই ন্যূনতম মানদণ্ড বা যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
আদালত আরও রায় দিয়েছে যে, 'ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন' (NCTE) কর্তৃক জারি করা কোনও বিজ্ঞপ্তি কিংবা কোনও অধস্তন আইন (subordinate legislation) মূল আইনকে বা 'প্যারেন্ট ল'-কে অগ্রাহ্য করতে পারে না। আর তাই, TET-এ উত্তীর্ণ হওয়ার যে বাধ্যতামূলক শর্ত রয়েছে, তা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অজুহাত হিসেবে এই বিজ্ঞপ্তি বা অধস্তন আইনগুলোকে ব্যবহার করা যাবে না। বেঞ্চ জানিয়েছে যে, শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা কোনওভাবেই TET-এর এই বাধ্যতামূলক শর্তটি বাতিল করার কারণ হতে পারে না। কারণ এমনটা করা হলে অযোগ্য শিক্ষকরা চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ পেয়ে যাবেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার গুণমানের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আবেদনকারীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, ২০১১ সালের সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের তাঁদের কর্মজীবনের মাঝপথে এসে TET-এ উত্তীর্ণ হতে বাধ্য করা যায় না। তাঁদের মতে, এমন কোনও শর্ত আরোপ করা হলে তা চাকরির শর্তাবলীতে একটি অন্যায্য পরিবর্তনের শামিল হবে। সুপ্রিম কোর্ট আবেদনকারীদের এই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার গুণমান বজায় রাখাই TET-এর লক্ষ্য। আদালত অভিমত প্রকাশ করেছে যে, প্রাথমিক শিক্ষার মান বজায় রাখাই TET-এর উদ্দেশ্য। আর এটি শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
বিভিন্ন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে TET-এর নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক চাকরি হারাতে পারেন, যার ফলে সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ধরনের বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে নিয়েও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, শিশুদের স্বার্থ এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতাই সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। আদালত রাজ্য সরকারগুলিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত TET পরীক্ষার আয়োজন করার নির্দেশও দিয়েছে। আদালত জানায় যে, যোগ্য শিক্ষকদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ করে দিতে এই পরীক্ষাটি বছরে অন্তত দুবার—প্রায় ছয় মাসের ব্যবধানে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
