
নির্বাচিত বিধায়ক দলবদল করবেন, পদত্যাগ করবেন, তার পর সেই আসনেই ফের উপনির্বাচনে লড়বেন—আর সেই ভোটের খরচ বহন করবে সাধারণ মানুষ! এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার, ২৬ অক্টোবর, এই মামলায় নোটিস জারি করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী কে সুথান। তাঁর আবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোনও বিধায়ক দলীয় অবস্থানের বিরোধিতা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এড়াতে পদত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দিয়ে ফের একই আসনে উপনির্বাচনে লড়তে পারেন কি না।
আইনজীবী কে সুথান এই মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভার আসন কোনও বিধায়কের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যে ভোটাররা তাঁকে নির্বাচিত করে বিধানসভায় পাঠান, আসনটি তাঁদের প্রতিনিধিত্বের প্রতীক। অথচ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কোনও বিধায়ক দলীয় অবস্থান বদলানোর জন্য পদত্যাগ করলে ভোটারদের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ হয়। আবেদনকারীর দাবি, বিধায়কদের দলবদলের জেরে উপনির্বাচন হলে তার আর্থিক বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের উপর। সরকারি অর্থে আয়োজিত সেই নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা এবং বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এআইএডিএমকে-র ছয় বিধায়কের পদত্যাগ ও পরবর্তী দলবদলকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, দলের হুইপ অমান্য করে আস্থাভোটে অবস্থান নেওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইনে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জমা পড়ে। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁরা বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং পরে শাসকদল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমে (টিভিকে) যোগ দেন। আবেদনকারীর বক্তব্য, স্পিকার অযোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই পদত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে দলত্যাগবিরোধী আইনের উদ্দেশ্যকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আবেদনে নির্বাচন কমিশন ও তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে একটি ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও বিধায়ক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করার পর সংশ্লিষ্ট আসনে ফের উপনির্বাচনে লড়তে চাইলে, সেই ভোট আয়োজনের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে যে অর্থ খরচ হবে, তার সমপরিমাণ টাকা আগাম জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। এ ছাড়া, দলত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত বিধায়কদের পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রাখার দাবিও জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিলে বিধায়ক ও সাংসদদের দলত্যাগের কারণে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রয়েছে। আবেদনকারীর আশঙ্কা, অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের আগেই পদত্যাগ করে উপনির্বাচনে জিতে ফিরে আসার সুযোগ থাকলে এই আইনের কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ এবং দলত্যাগের কারণে অযোগ্য ঘোষণা—দুটি পৃথক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। এই দুইয়ের মধ্যে আইনি সম্পর্ক কী, তা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, বিধানসভার সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ছয় প্রাক্তন বিধায়ককেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।