তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেবেন নাকি মমতার সঙ্গেই থাকবেন? স্পষ্ট করলেন শত্রুঘ্ন সিনহা

Published : Jun 11, 2026, 07:19 PM IST
Shatrughan Sinha dismissed speculation of joining the TMC rebel camp

সংক্ষিপ্ত

বিদ্রোহী নেতারা দাবি করেছিলেন যে লোকসভার স্পিকারের কাছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রতি আনুগত্য জানিয়ে যে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ চিঠি জমা দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে সিনহাও ছিলেন। 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সিনহা এই দাবি খারিজ করে দিয়ে বলেন, তিনি এমন কোনও চিঠিতে সই করেননি এবং এ বিষয়ে বিদ্রোহী শিবিরের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গেই থাকার কথা জানিয়ে যাবতীয় জল্পনাকে উড়িয়ে দিলেন সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। বৃহস্পতিবার জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সিনহা আরও বলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি জনগণের জোরাল সমর্থন এখনও অটুট রয়েছে এবং তৃণমূল ছাড়ার কোনও ইচ্ছাই তাঁর নেই।

বিদ্রোহী নেতারা দাবি করেছিলেন যে লোকসভার স্পিকারের কাছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র প্রতি আনুগত্য জানিয়ে যে ১৯ জন তৃণমূল সাংসদ চিঠি জমা দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে সিনহাও ছিলেন। 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে সিনহা এই দাবি খারিজ করে দিয়ে বলেন, তিনি এমন কোনও চিঠিতে সই করেননি এবং এ বিষয়ে বিদ্রোহী শিবিরের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। তিনি বলেন, "আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই থাকব।"

তিনি আরও বলেন, "কেউ কেউ আমাকে বিদ্রোহী মনে করতে পারেন। তবে সত্য কথা বলা যদি বিদ্রোহ হয়, তবে আমি বিদ্রোহী। কিন্তু এই গোষ্ঠীর সঙ্গে আমার নাম জড়ানো উচিত নয়। আমি কোনও কিছুতেই সই করিনি, আর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করেননি।"

এমন এক সময়ে তাঁর এই মন্তব্য এল যখন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাংসদ ও বিধায়কদের দলত্যাগের হিড়িক পড়েছে। এর ফলে দলটি তার ইতিহাসের অন্যতম গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখে পড়েছে এবং কার্যত ভাঙনের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবীণ নেতা জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাবেন না, কারণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে বলেন, "২০১৯ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর যখন আমি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি আমাকে উৎসাহিত করেছিলেন, আসানসোল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং আমি জয়ী হয়েছিলাম। তাঁর কঠিন সময়ে আমি তাঁকে ছেড়ে যেতে পারি না।"

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর নেতৃত্ব—যে বিষয়ে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নেতা আপত্তি তুলেছেন। এই সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করা হলে সিনহা বলেন যে, দলে মমতাই তাঁর একমাত্র নেত্রী এবং ওই ভূমিকায় তিনি অন্য কাউকে স্বীকার করেন না। অভিনেতা বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি ভালোভাবেই চিনি, কিন্তু আমার নেত্রী সবসময়ই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও নির্দেশ আদান-প্রদান সবসময় তাঁর সঙ্গেই হয়েছে এবং আজও আমি মমতাদি-র কথাই শুনব। ওই ভূমিকায় বা সেই অবস্থানে আমি অন্য কাউকে চিনি না বা স্বীকারও করি না,"

শত্রুঘ্নর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে একজন 'স্ট্রিট ফাইটার' বা রাজপথের লড়াকু নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যিনি সর্বদা জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখেন। তিনি আরও বলেন, "এমনকি আজও মমতা দি-র ঝুলিতে প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট রয়েছে এবং জনগণের বিপুল সমর্থন তাঁর সঙ্গে রয়েছে।"

বিদ্রোহী সাংসদদের যে তালিকা নিয়ে জল্পনা চলছে—যার মধ্যে ইউসুফ পাঠান ও সায়নী ঘোষের মতো বিশিষ্ট নামও রয়েছে—সে প্রসঙ্গে সিনহা জানান, তালিকাটি দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। তবে তিনি এ-ও বলেন, "কেউ কেউ হয়তো ভয়, চাপ, প্রলোভন বা পরিস্থিতির চাপে এমনটা করে থাকতে পারেন। আবার কারও কারও মনে হতে পারে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা হয়তো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন না।"

তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা বা সংযুক্তি নিয়ে চলা জল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সিনহা জানান, সংযুক্তি নিয়ে কোনও আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে সহযোগিতা গণতন্ত্র, বিরোধী শিবির, পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের জন্য কল্যাণকর হবে।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

NITI Aayog: ২০৪৭-এর 'বিকশিত ভারত' গড়তে রাজ্যগুলিকে সঙ্গে নিয়ে চলার বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
NITI Aayog: নীতি আয়োগ বৈঠকের ফাঁকে মোদীর সঙ্গে একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক, কী নিয়ে কথা হল?