সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য দারুণ খবর। এবার থেকে বইয়ের বোঝার ভার আর বইতে হবে না। পড়ুয়াদের আনন্দময় পরিবেশ দিতে 'নো ব্যাগ ডে' চালু করল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। জেনে নিন বিস্তারিত।
রোজ রোজ কাঁধের ওপর কিলো কিলো বইয়ের বোঝা। সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে শিক্ষা দফতর এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে থাকা আসল প্রতিভা খুঁজে বের করতে চালু হল 'টেন ব্যাগ-লেস ডে' প্রোগ্রাম। স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির সব পড়ুয়ার জন্য এই নিয়ম কার্যকর হবে।
25
মাসে একদিন 'নো ব্যাগ ডে', দেখে নিন তারিখগুলো
এই নতুন নিয়মে, শিক্ষাবর্ষে মোট ১০ দিন 'নো ব্যাগ ডে' হিসেবে ঠিক করা হয়েছে। সাধারণত, প্রতি মাসের তৃতীয় শনিবার পড়ুয়ারা বইয়ের ব্যাগ ছাড়াই স্কুলে যেতে পারবে। শিক্ষা দফতর ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত কিছু তারিখ ঘোষণা করেছে। তারিখগুলো হল: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৬, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭, এবং ২০ মার্চ ২০২৭। বাকি ৫টি দিন স্কুলগুলো নিজেদের সুবিধা মতো ঠিক করতে পারবে।
35
বই ছাড়া স্কুলে গিয়ে কী করবে পড়ুয়ারা?
বই নেই বলে পড়ুয়ারা কিন্তু ক্লাসে চুপচাপ বসে থাকবে না। এই বিশেষ দিনগুলোর জন্য SCERT (স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং) কিছু মজার অ্যাক্টিভিটি ডিজাইন করেছে। যেমন - স্থানীয় জায়গায় ফিল্ড ভিজিট, বিজ্ঞানের লাইভ পরীক্ষা, কুইজ প্রতিযোগিতা, বালসভা, আঁকা, নাটক এবং স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ। এর ফলে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, পড়ুয়াদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, বাস্তববুদ্ধি এবং নেতৃত্ব দেওয়ার গুণও বাড়বে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
এর আগেও 'নো ব্যাগ ডে'-র পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু ঠিকমতো কার্যকর হয়নি। তবে এবার শিক্ষা দফতর এই বিষয়ে খুব কড়া। আরজেডি, ডিইও, এমইও থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষকদের ওপর সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্কুল স্তরে বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরি করা, বাইরে ট্রিপে গেলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার দিকে নজর রাখা, এবং বিশেষভাবে সক্ষম পড়ুয়ারা যাতে সবার সঙ্গে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পড়ুয়ারা কী শিখল, তার মূল্যায়ন করে শিক্ষকদের রিপোর্টও তৈরি করতে হবে।
55
খুশির হাওয়া পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মধ্যে
পড়াশোনা মানে শুধু ক্লাসরুম আর হোমওয়ার্কের বোঝা নয়। এই নতুন নিয়মে পড়ুয়ারা খেলার ছলে অনেক কিছু শিখতে পারবে। তেলেঙ্গানার শিক্ষা দফতরের এই উদ্যোগকে সবাই প্রশংসা করছে। এই সিদ্ধান্তে পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকরাও খুব খুশি।