
Yusuf Pathan News: গুজরাতের (Gujarat) ভদোদরায় (Vadodara) বিতর্কিত জমির মালিকানা পেতে চলেছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তাঁর বাড়ি লাগোয়া ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি সরকারি জমির মালিকানা বরাদ্দ করার প্রস্তাবে অনুমোদন করেছে গুজরাত সরকার। ভদোদরা পুর নিগমকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভদোদরা পুর নিগমের স্ট্যান্ডিং কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই এই জমির মালিকানা পেয়ে যাবেন পাঠান। এই জমির আনুমানিক মূল্য ২০.৫৩ কোটি টাকা। প্রতি বর্গমিটারের দাম ধরা হয়েছে ২.১০ লক্ষ টাকা। তবে এই প্রাক্তন ক্রিকেটারকে জমির মালিকানা পাওয়ার জন্য মোট কত টাকা দিতে হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। গুজরাত সরকারের নির্দেশ খতিয়ে দেখার পরই জমির মূল্য নির্ধারণ করবে ভদোদরা পুর নিগম। পুর কমিশনার অরুণ বাবু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রস্তাবটি স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে পেশ করা হবে। কমিটির সম্মতি পেলেই জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাবে।
২০১২ সালে ভদোদরার তান্দালজা অঞ্চলে নিজের বাংলোর পাশে থাকা ৯৭৮ বর্গমিটারের ওই জমি বরাদ্দের জন্য পুর নিগমের কাছে আবেদন জানান পাঠান। ওই বছরের ৩০ মার্চ এবং ৮ জুনের বৈঠকে জমি বরাদ্দের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পরে প্রকাশ্য নিলাম ছাড়াই ৯৯ বছরের লিজে জমিটি তাঁকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল পুর নিগম। কিন্তু ২০১৪ সালে প্রকাশ্য নিলাম ছাড়া জমি বরাদ্দের সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় গুজরাত সরকার। এরপরেও জমিটি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। ২০২৪ সালে আগের বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে জমিতে কথিত বেআইনি দখল সরাতে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয় পুর নিগম। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুজরাত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পাঠান। গত বছরের ২১ অগাস্ট গুজরাত হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান পাঠান। চলতি বছরের ৮ জুন মামলার শুনানিতে গুজরাত হাইকোর্ট প্রশ্ন তোলে, আইন মেনে জমি বরাদ্দ না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অর্থ জমা না পড়া সত্ত্বেও কীভাবে সরকারি জমি দখলে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুর নিগমের আধিকারিকদের ভূমিকাও আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ে। পাঠানের আইনজীবী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের জমি বরাদ্দের বিষয়ে রাজ্য সরকারের নীতির উল্লেখ করে আরও বক্তব্য পেশের জন্য সময় চান। তবে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে চলতি বছরের ৩১ অগাস্ট। ওই দিন গুজরাত হাইকোর্টে দায়ের করা আপিল প্রত্যাহার করে নেন পাঠান। এরপরেই জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া নতুন করে এগোনোর পথ তৈরি হয়েছে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনের (2021 West Bengal Assembly Elections) পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে (Nationalist Citizens Party of India) যোগ দেন পাঠান। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, মমতার সঙ্গ ছাড়়ার পুরস্কার হিসেবেই বিতর্কিত জমির মালিকানা পাচ্ছেন বহরমপুরের সাংসদ।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।