
ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে শহরের ৫০টি জেলাকেই দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
Thailand Flood 2026: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক। কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে শহরের ৫০টি জেলাকেই দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ২–৩ দিনের মধ্যে ৩০০ থেকে ৩২০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা প্রায় এক মাসের গড় বৃষ্টির সমান। বন্যায় ব্যাংককে প্রায় ৩ লক্ষ ২৯ হাজার পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে লাট ক্রাবাং, ব্যাং কপি, খান না ইয়াও, সাফান সুং, সুয়ান লুয়াং এবং লাক সি। শুধু লাট ক্রাবাং এলাকাতেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।
জলমগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫,৯০০ মানুষকে ২৩৪টি ত্রাণ ও আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১,৫০০ শয্যাশায়ী রোগীকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্য়াঙ্ককের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাল সেন স্যাপ, প্রাওয়েট বুরিরোম, লাট ফ্রাও এবং প্রেম প্রাচাকন এখনও সংকটজনক জলস্তরে রয়েছে। জল নামাতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরো ক্ষমতায় কাজ করলেও আশপাশের এলাকা থেকে এখনও ব্যাংককের দিকে জল ঢোকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে। প্রশাসনের অনুমান, আরও ২ দিন বৃষ্টি না হলে জলস্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
রামখামহেং রোড, শ্রীনাকরিন রোড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় এখনও জল জমে রয়েছে। পূর্ব ব্যাঙ্ককের নিচু এলাকাগুলির পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি খারাপ। তবে পেচাবুরি ও সেনানিকোমের কিছু অংশে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আজ ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংকক এবং পার্শ্ববর্তী তিন প্রদেশে বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংককের মেট্রোপলিটন প্রশাসনের স্কুলগুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে। বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর এবং সম্ভব হলে উঁচু রাস্তা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় মোবাইল কিচেন ও নৌকা নামিয়ে ত্রাণ পরিষেবা চালানো হচ্ছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে গোটা থাইল্যান্ডে বন্যায় ৪১টি প্রদেশের ৫ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বন্যাজনিত ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দেশজুড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১১ বিলিয়ন থাই বাত। ব্যাংকক সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র প্রায় ১.৫ মিটার উঁচু এবং নরম মাটির উপর অবস্থিত হওয়ায় জল জমার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। ২৭–২৮ সেপ্টেম্বর রাতের বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও নিচু এলাকা ও খালের ধারের বহু জায়গায় জল এখনও জমে রয়েছে। পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি হলেও পুরোপুরি জলমুক্ত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।