মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক গোপন ডেরায় গা ঢাকা দিয়ে আছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা এতটাই জটিল যে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াও থমকে গিয়েছে। 

কোথায় রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই? এই প্রশ্নটা শুরুমাত্র ইরান নয়, গোটা বিশ্বের। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরের কথা খামেনেই-র সঙ্গে যোগাযোগ এতটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে মাঝেমধ্যেই থমকে যেতে বসেছে শান্তি আলোচনা। বর্তমানে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছে রয়েছেন খামেনেই, এক গোপন ডেরায় থাকছেন। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। রবিবার মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

খামেনেই সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের রিপোর্ট

রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে খামেনির কাছে পৌঁছনোর একমাত্র উপায় হল একদল বার্তাবাহকের জটিল নেটওয়ার্ক। যা ভেদ করা প্রায় অসম্ভব। এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্বে থাকা ইরানি কর্মকর্তারা নিজেদের সরকারের মধ্যেই ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারছেন না। শান্তি আলোচনা এত ধীর গতিতে এগোনোর এটাও একটা বড় কারণ।

সিবিএস নিউজ জানাচ্ছে, আমেরিকা যখন আলোচনার জন্য কোনও প্রস্তাব পাঠায়, খামেনির কাছে পৌঁছনোর এই জটিল ব্যবস্থার কারণে তার জবাব আসতে অনেক দেরি হয়ে যায়। দুজন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন। অনেকেই মনে মনে করছেন তেহরান বা সেখান থেকে কিছুটা দূরে সম্পূর্ণা নিরাপত্তার বেষ্টনীতে রাখা হয়েছে মোজতাবাকে। আর তাঁর কাছে সকলের পৌঁছানোও নিষিদ্ধ। বলা যেতে পারে তেমন ব্যবস্থাই করা হয়নি। নির্দিষ্ট কয়েক ব্যক্তি বা মহিলাই মোজতাবার কাছে পৌঁছাতে পারে।

সর্বোচ্চ সাবধানতা খামেনেইর জন্য

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা এতটাই সাবধানতা নিচ্ছেন যে ইরানের শীর্ষস্তরের কর্মকর্তারাও জানেন না তিনি ঠিক কোথায় আছেন। তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার কোনও উপায় তাঁদের কাছে নেই। এর বদলে, খামেনির অবস্থান গোপন রাখার জন্য তৈরি করা এক বিশেষ কুরিয়ার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তাঁর কাছে বার্তা পাঠানো হয়। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে আসা প্রতিটি তথ্যই পুরনো তারিখের। সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে জবাব আসতেও অনেক দেরি হচ্ছে।

গোপন ডেরায় থাকার কারণ

আরেক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের সময় মার্কিন ও ইজরায়েলি গোয়েন্দারা ইরান সরকারের ভেতর থেকেই খবরাখবর পেয়েছিলেন। এর ফলেই ইরানের অনেক শীর্ষ নেতাকে খুঁজে বের করে নিশানা করা সম্ভব হয়েছিল। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন। ওই একই ধরনের হামলায় তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন। বাবার মতো পরিণতি এড়াতেই তিনি এখন চরম সতর্কতা অবলম্বন করছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে ইরানের সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত তাঁর নামে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করা হয়।