- Home
- World News
- International News
- Oil Prices: এক ধাক্কায় ৯৯ ডলারের নিচে অপরিশোধিত তেল! আমেরিকা-ইরান চুক্তির জল্পনায় তোলপাড় তেলের বাজার
Oil Prices: এক ধাক্কায় ৯৯ ডলারের নিচে অপরিশোধিত তেল! আমেরিকা-ইরান চুক্তির জল্পনায় তোলপাড় তেলের বাজার
Crude Prices: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় পতন। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৯ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

আলোচনার জল্পনাতেই তেলের দামে পতন
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির কাঠামো নিয়ে জল্পনা বাড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড়সড় পতন দেখা গেল। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৫৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ৪.৬৮ শতাংশ কমে ৯২.০৮ ডলার প্রতি ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ভারতের তেলের দাম উর্ধ্বমুখী
ভারতে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম উর্ধ্বমুখী। এক মাসে এই নিয়ে পরপর দাম বাড়ল তেলের। আজও ২ টাকা করে বেড়েছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপে তেল সংস্থাগুলো পেট্রোলের দাম ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা বাড়িয়েছে।
হরমুজ নিয়ে আলোচনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার ট্রাম্পের
এর আগে শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যালে' একটি পোস্টে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তির আলোচনা "অনেকটাই এগিয়েছে"। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে আমেরিকা বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও রয়েছে।
ট্রাম্পের ইউরেনিয়াম নষ্টের শর্তে রাজি ইরান!
সিএনএন-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দিতে এবং তাদের মজুত করা উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নষ্ট করে ফেলতে রাজি হয়েছে।
তবে, সিএনএন একজন সিনিয়র মার্কিন প্রশাসনিক কর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই ইউরেনিয়ামের ভান্ডার কীভাবে নষ্ট করা হবে বা ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ কতদিন হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির বেশ কিছু বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে, যদিও দুই পক্ষই একটি বৃহত্তর কাঠামো চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হরমুজ নিয়ে আমেরিকার বার্তা
ওই মার্কিন কর্তা আরও জানিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার পরেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা বা ইরানের সম্পত্তি মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সম্ভাব্য স্বস্তি বা সুরাহা প্যাকেজের আর্থিক মূল্য কত হবে, তাও এখনও ঠিক হয়নি।
তাড়াহুড়োতে রাজি নয় ট্রাম্প
এই খবর এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছিলেন যে পশ্চিম এশিয়ার সংকট মেটাতে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে ওয়াশিংটন কোনও "তাড়াহুড়ো করবে না"। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত ও অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলিতে আমেরিকার "অবরোধ পুরোদমে জারি থাকবে"।
ওবামার সমালোচনা
ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি পোস্টে ট্রাম্প ওবামা প্রশাসনের আমলে স্বাক্ষরিত ইরান পরমাণু চুক্তির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ওই চুক্তিকে "এখনও পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে খারাপ চুক্তিগুলির মধ্যে একটি" বলে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, বারাক ওবামার ওই ত্রুটিপূর্ণ কাঠামোর জন্যই তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথে এগিয়েছিল।
ট্রাম্প যোগ করেন, তার প্রশাসন বর্তমানে যে আলোচনা চালাচ্ছে তা "একেবারে বিপরীত"।
ইরান নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা "সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে" চলছে। তবে তিনি তার প্রতিনিধিদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তার মতে, "সময় আমাদের পক্ষে"।
ট্রাম্পের পোস্ট
পোস্টে লেখা হয়েছে, "আমাদের দেশের করা সবচেয়ে খারাপ চুক্তিগুলির মধ্যে একটি ছিল ইরান পরমাণু চুক্তি, যা বারাক হুসেন ওবামা এবং ওবামা প্রশাসনের অনভিজ্ঞরা তৈরি ও স্বাক্ষর করেছিল। এটি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সরাসরি পথ করে দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা তেমন নয় - আসলে একেবারে বিপরীত! আলোচনা সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে এগোচ্ছে, এবং আমি আমার প্রতিনিধিদের জানিয়েছি যে তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই কারণ সময় আমাদের পক্ষে। চুক্তি স্বাক্ষরিত ও অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ পুরোদমে জারি থাকবে। দুই পক্ষকেই সময় নিয়ে সঠিক কাজটি করতে হবে।"
ইরানের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও দাবি করেন যে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক "অনেক বেশি পেশাদার ও ফলপ্রসূ" হয়ে উঠছে। তবে তিনি ফের মনে করিয়ে দেন যে তেহরানকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করতে দেওয়া হবে না।
পোস্টে তিনি যোগ করেন, "কোনও ভুল করা চলবে না! ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক বেশি পেশাদার ও ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে। তবে তাদের বুঝতে হবে যে তারা পরমাণু অস্ত্র বা বোমা তৈরি বা সংগ্রহ করতে পারে না।"

