- Home
- West Bengal
- Kolkata
- এবার কলকাতায় ফুটতে পারে পদ্ম? SIR-এর কারণেই BJP TMCকে হারিয়ে জিততে পারে এই ৫টি আসন
এবার কলকাতায় ফুটতে পারে পদ্ম? SIR-এর কারণেই BJP TMCকে হারিয়ে জিততে পারে এই ৫টি আসন
TMC Vs BJP: কলকাতা জেলার ১১টি আসন। সেখানেই বাম জমানা থেকেই গুটি কয়েক আসন বাদে সবকটি আসনেই তৃণমূলের দখলে ছিল। কিন্তু এবার SIR-এর জন্য কলকাতার কয়েকটি আসন হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের। তেমনই বলছে অনুমান।

SIR ফ্য়াক্টর
এবার বিধানসভা নির্বাচনে SIR একটি একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। বিশেষ করে কলকাতায়। কলকাতা জেলার ১১টি আসন। সেখানেই বাম জমানা থেকেই গুটি কয়েক আসন বাদে সবকটি আসনেই তৃণমূলের দখলে ছিল। কিন্তু এবার SIR-এর জন্য কলকাতার কয়েকটি আসন হাতছাড়া হতে পারে তৃণমূলের। তেমনই বলছে অনুমান।
১১\১১ তৃণমূল
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল হল ১১টির মধ্যে ১১টি আসন ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। ২০২৪ সালের লোকসভায় কলকাতা উত্তর ও কলকাতা দক্ষিণ দুটিতেই তৃণমূল জয়ী হয়েছিল। তবে বিধানসভা নিরিখে ১১টির মধ্যে ৯টিতে তৃণমূল আর মাত্র ২টি এগিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তারপরই হিসেব বদলে দিচ্ছে SIR। তেমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
SIR-এর নাম বাদ
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ূ উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার ভোটারের সংখ্যা ৬০৬৫৬৩ জন কমেছে। আর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তথ্য বলছে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার বিজেপি আর তৃণমূলের মধ্য়ে ভোটের ব্যবধান ছিল ৬০৭৬১২।
বাদপড়ারা কাদের ভোটার?
একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী SIRএর মাধ্যমে বাদ দেওয়া আসনগুলির সিংহভাগই তৃণমূলের ভোটার। কারণ যাদের নাম বাদ গেছে তাদের অধিকাংশই মুসলিম, মহিলা আর গরীব ভোটার। তৃণমূলের এক নেতার কথায় SIRএর মাধ্যমে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্কে কোপ মেরেছে নির্বাচন কমিশন।
কত নাম বাদ?
কলকাতার চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৮০ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে এইনাম বাদের সংখ্যা ৫০ হাজার। এছাড়াও কলকাতার তিনটি আসনে ৭০ হাজার, দুটি আসনে ৫০ হাজার নাম বাদ গেছে। ২০২৪ সালে ভবানীপুর আসন থেকেই দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল প্রার্থীকে ৮ হাজারেরও বেশি লিড দিয়েছিল। কিন্তে এবার ভোটারেই কোপ পড়েছে।
বিজেপি এগিয়ে যেতে পারে ৫ আসনগুলিতে
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী ১০ হাজারের কম ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল জিতেছিল এই ৫টি আসনে। সেগুলি হলঃ
রাসবিহারী (১,৬৯১ ভোট), ভবানীপুর (৮,২৯৭), মানিকতলা (৩,৫৭৫) এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া (৭,২৬৮)। আরেকটি আসনে তৃণমূলের ব্যবধান ছিল ১৫,০০০-এর নিচে — চৌরঙ্গী (১৪,৬৪৫ ভোট)।
তৃণমূলের জন্য অনিশ্চিত হতে পারে
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রেই জানা গিয়েছে কলকাতা বন্দর আর বেলেঘাটা এই দুটি আসনেও তৃণমূলের জয় নিশ্চিত নয়।
কলকাতা বন্দর তৃণমূল ৪২,৮৯৩ ভোটে এগিয়ে ছিল, যেখান থেকে ৭৭,১২৫ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম।
বেলেঘাটা—যেখানে ২০২৪ সালে তৃণমূলের ৪৬,১১২ আসনের অগ্রগমন ৬৬,০১৯ আসন মুছে ফেলার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে—সেখানেও বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটারের বাস, যাঁরা এসআইআর-এর কোপের সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছেন।
বিজেপির কাঁটা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি শ্যামপুকুর থেকে ১৫৯৯ ভোটে আর জোড়াসাঁকো থেকে ৭৪০১ ভোটে এগিয়ে ছিল। আর এই দুটি আসন থেকে ৪৪,৬৯৩ এবং ৭৬,৫২৪ ভোটারের নাম বাদ। দুটি আসনেই হিন্দিভাষী হিন্দু ভোটারের ওপর কোপ পড়েছে। তাই এই দুটি আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে বিজেপির মধ্যে।
ভোটার কমার %-এর হিসেব
দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী SIR শুরু হওয়ার পর থেকেই কলকাতা দক্ষিণের ভোটার সংখ্যা ২,৪৭৮৮২ জন অর্থাৎ ২৭% কমেছে। আর কলকাতা উত্তরে এই সংখ্যা ৩,৫৮৬৮১ । শতাংশ হিসেবে ২৪%।
TMC Vs BJP
এই পরিস্থিতি কলকাতা আর একচেটিয়ে তৃণমূলের দখলে থাকবে না বলেও মনে করেছে বিজেপির একাধিক কর্মকর্তা। অমিত মালব্য বৃহস্পতিবারই একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, কলকাতা থেকে ৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তিনি আরও বলেছেন, কলকাতা আর হয়তো তৃণমূলের জন্য স্বস্তিদায়ক জায়গা নয়। প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে। অন্যদিকে এসআইআরে নাম বাদ গেলেও তৃণমূলের হাতেই থাকবে কলকাতা- তেমনই দাবি কলকাতার ঘাসফুল শিবিরের নেতাদের।

