
উত্তর চিনের এক বৃদ্ধাকে মৃত ভেবে রেফ্রিজারেটেড কফিনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই তাঁর শরীরে প্রাণের স্পন্দন ফেরে। যদিও দুদিন পর সত্যিই মারা যান তিনি। এই ঘটনায় আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা রীতিমতো অবাক। চিনের মূল ভূখণ্ডের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হেবেই প্রদেশের ওই বৃদ্ধার বয়স ৭০-এর কোঠায়। তিনি কয়েক দশক ধরে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিসে ভুগছিলেন। পাশাপাশি তাঁর ক্যানসারও হয়েছিল।
চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন যে তাঁর ক্যানসারের আর কোনো চিকিৎসা সম্ভব নয়। এরপর জীবনের শেষ দিনগুলো কাটানোর জন্য পরিবার তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর আত্মীয়রা দেখেন যে বৃদ্ধার শরীরে কোনো সাড়াশব্দ নেই। তিনি মারা গেছেন ভেবে পরিবার তাঁকে একটি রেফ্রিজারেটেড কফিনে রাখে। দূরের আত্মীয়রা শেষবারের মতো দেখতে আসবেন, তাই দেহ সংরক্ষণের জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। হঠাৎই বৃদ্ধার পুত্রবধূ কফিনের ভেতর থেকে অস্পষ্ট 'গোঙানির' শব্দ শুনতে পান। ভয় পেয়ে পরিবার সঙ্গে সঙ্গে কফিন খুলে ওই বৃদ্ধাকে বের করে আনে।
১১ সেপ্টেম্বর অন্য আত্মীয়রা যখন পৌঁছান, তখন তাঁরা দেখেন যে বৃদ্ধার জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি চোখ খুলতে পারছেন। তবে তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল। তিনি কিছুই খেতে বা পান করতে পারছিলেন না।
ওই দিন রাতেই বৃদ্ধা মারা যান। এরপর ১৩ সেপ্টেম্বর আত্মীয়দের উপস্থিতিতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পরে বৃদ্ধার পরিবারের এক সদস্য এই অদ্ভুত ঘটনার কথা অনলাইনে শেয়ার করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেন যে ঘটনাটি আদৌ সত্যি কি না।
এর জবাবে ওই ব্যক্তি লেখেন, "নিজের পরিবারের সদস্যের জীবন-মৃত্যু নিয়ে কেউ কখনো মিথ্যে গল্প বানায় না।" ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাও জানান যে তাঁরা এই ঘটনার কথা শুনেছেন। গোটা গ্রামেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
গ্রামের এক আধিকারিক জানান, পরিবার কফিনের ডিপ-ফ্রিজিং মোডের বদলে শুধু রেফ্রিজারেশন ফাংশন ব্যবহার করেছিল। আত্মীয়রা বাড়ি ফেরা পর্যন্ত দেহটি ঠিক রাখতেই এই হালকা ঠান্ডার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, এই অদ্ভুত ঘটনাটি 'অ্যাপারেন্ট ডেথ' বা আপাত মৃত্যুর কারণে হতে পারে। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষের বেঁচে থাকার লক্ষণগুলো এতটাই ক্ষীণ হয়ে যায় যে তা ধরা খুব কঠিন।
'হেলথ টাইমস'-এর মতে, এই অবস্থায় থাকা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং হৃদস্পন্দন অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। শরীরের মেটাবলিজম অনেকটাই কমে যায় এবং রোগী গভীর কোমায় চলে যান। ফলে তাঁকে দেখে মৃত বলে মনে হয়। কোনো মানুষ সত্যিই মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকরা কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। যদি প্রাণের স্পন্দন থাকার সামান্যতম সম্ভাবনাও থাকে, তবে তাঁরা রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।