
Bangladesh News: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা যে শুধু সরকার-বিরোধী ছিল না, বরং ভারত-বিরোধিতাও ছিল, সেটা জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলামের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে গেল। হাসিনার বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন নাহিদ। তিনি এখন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ। ভারত-বিরোধী হিসেবে পরিচিত নাহিদ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এই জাদুঘরে ‘ভারতীয় আগ্রাসনের চিত্র’ দেখতে চাইছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি, জাদুঘরে তেমন কিছু নেই। বাংলাদেশের বর্তমান শাসক দল বিএনপি-কে (BNP) আক্রমণ করেছেন নাহিদ। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে।’
শনিবার সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির বেশ কয়েকজন নেতা এক প্রতিনিধি দল নিয়ে জুলাই জাদুঘর পরিদর্শনে যান। সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাহিদ বলেন, ‘বিশেষত, এখানে সীমান্ত হত্যার একটা সেগমেন্ট ছিল। আমাদের সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ-এর (BSF) হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ভাইবোনদের একটা তালিকা ছিল, ফেলানির একটা ভাস্কর্য ছিল। সেই জিনিসগুলি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মোদি-বিরোধী আন্দোলনের কিছু স্মৃতি ও ছবি ছিল, সেটাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিএনপি হয়তো ভারতকে ভয় পাচ্ছে। যদি ভয় না পেত, তাহলে যেটা ইতিহাসের অংশ, সেটা কেন থাকবে না? জাদুঘরের বর্তমান চিত্রে দল হিসেবে বিএনপি-র নির্যাতনের কনটেন্ট বৃদ্ধি করা হয়েছে। দলীয় বক্তব্য ও বয়ান বেড়েছে। এই জাদুঘর সব সময় একটা একটা আপডেটের মধ্যে থাকবে।’
হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। বিএনপি বরাবরই ভারত-বিরোধী হিসেবে পরিচিত। নাহিদের দলও ঘোষিতভাবে ভারত-বিরোধী। ফলে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধিতা বাড়ছে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনও বাড়ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ফলে আপাতত ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।