Nepal Flood: ঠিকানা হারা মৃত্যু! হিমালয়ের কোলে আকস্মিক ধস ও তা থেকে তৈরি হওয়া ভয়াবহ হড়পা বানের ধ্বংসলীলায় শোকস্তব্ধ নেপাল। মৃতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৫০০-র কাছকাছি। জলের তোড় এতটাই মারাত্মক যে, দুর্যোগের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ভেসে গিয়েছে একের পর এক দেহ।

Nepal Flood: ঠিকানা হারা মৃত্যু! হিমালয়ের কোলে আকস্মিক ধস ও তা থেকে তৈরি হওয়া ভয়াবহ হড়পা বানের ধ্বংসলীলায় শোকস্তব্ধ নেপাল। মৃতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সাড়ে ৫০০-র কাছকাছি। জলের তোড় এতটাই মারাত্মক যে, দুর্যোগের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে ভেসে গিয়েছে একের পর এক দেহ। নেপালের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে সেই দেহ এসে পৌঁছেছে ভারতের মাটিতেও। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলায় গণ্ডক নদী থেকে অন্তত তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে দুই দেশের সীমান্ত এলাকাতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

তাসের ঘরের মতো ভেসে যায় সব কিছু

বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে হঠাৎ এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। যাকে বলা হচ্ছে পাহাড়ে সুনামি। ভূকম্পন সংক্রান্ত সংকেত বা সিসমিক সিগন্যাল পাওয়ার মাত্র সাত মিনিটের মাথায় রসুওয়াগাধিতে আছড়ে পড়ে কাদামাটি, বোল্ডার ও বরফগোলা জলের এক প্রকাণ্ড দেওয়াল। তাসের ঘরের মতো ভেসে যায় নদীর পাড়ের লোকালয়, সেতু এবং একাধিক পরিকাঠামো। উদ্ধারকারীরা নদীর গতিপথ ধরে তল্লাশি চালিয়ে নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান এবং নওয়ালপরাসী পূর্ব জেলা থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধার করছেন। নেপালের দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত চিতওয়ান জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে করুণ; কেবল এই একটি জেলা থেকেই এ পর্যন্ত ১৩২টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জে গণ্ডক নদী থেকে তিনটি দেহ ভেসে ওঠার পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, পাহাড়ি নদীর অপ্রতিরোধ্য স্রোত মৃতদেহগুলিকে সীমান্ত পার করে ভারতে টেনে এনেছে।

দেখুন ভিডিও

Scroll to load tweet…

ব্যাহত উদ্ধারকাজ ও শনাক্তকরণের সংকট

বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তা ও সেতু পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। নিখোঁজদের তালিকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। ফলে দেহ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় বড় সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দুই দেশের প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সীমানার দুই পাশেই আধিকারিকরা উদ্ধার হওয়া দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং স্বজনহারা পরিবারগুলির কাছে খবর পৌঁছাতে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন। প্রশাসনের তরফে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। যে হেতু নদীগর্ভে এখনও বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে, তাই আগামী দিনগুলিতে মৃতের সংখ্যা এবং উদ্ধার হওয়া দেহের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।