বিশ্বজুড়ে খুব দ্রুত বদলাচ্ছে আবহাওয়া। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সুপার এল নিনোর প্রভাবে এবার মারাত্মক রূপ নিতে পারে গরম। আর এই ভয়ংকর তাপপ্রবাহের জেরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব একটি চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট দিয়েছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। মূলত অতিরিক্ত গরমের কারণেই এই প্রাণহানির আশঙ্কা।
28
ভারতে ১৫,৮০০ মৃত্যুর আশঙ্কা
এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভারতে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ভারতের ক্ষেত্রে এই মারাত্মক গরমের প্রভাব পরের বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত চলতে পারে। অর্থাৎ, ফেব্রুয়ারিতেই যে এল নিনোর দাপট শেষ হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই। গ্রীষ্মকালে এই তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
38
এশিয়া ও আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব সবচেয়ে মারাত্মক হতে পারে। অতিরিক্ত গরমের কারণে নাইজেরিয়ায় ৩১,৪০০, সুদানে ১৭,৫০০, নাইজারে ১০,০০০ এবং চাদে ৮,০০০ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। পিছিয়ে নেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াও। ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯,৪০০ জনের মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৯,৩০০ এবং ব্রাজিলে ১৩,৩০০ জন প্রাণ হারাতে পারেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়াকেই এল নিনো বলে। এর ফলে সারা বিশ্বের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রায় বড়সড় বদল আসে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, বর্তমানে এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
58
কেন এত বিপজ্জনক এল নিনো?
২০২৬ সালের শেষের দিকে এটি চরম আকার ধারণ করবে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এর প্রভাব থাকার ১০০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকার আবহাওয়া সংস্থা NOAA-ও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শীতে শক্তিশালী এল নিনো তৈরির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে গিয়েছে।
68
আগাম সতর্কতাই বাঁচার একমাত্র উপায়
চরম তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে আগাম সতর্কতা জারি করা খুব জরুরি। কুলিং সেন্টার তৈরি, পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং রোদে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
78
উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি
১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সালের আবহাওয়াকে স্বাভাবিক ধরে এই হিসাব কষা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, দিনমজুর এবং আগে থেকেই অসুস্থ থাকা মানুষেরা এই চরম তাপমাত্রার শিকার হবেন।
88
সংখ্যাটি চূড়ান্ত নয়
তবে ৪ লাখ ৫১ হাজার মৃত্যুর সংখ্যাটি চূড়ান্ত নয়। এটি বর্তমান আবহাওয়া ও পুরনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি অনুমান মাত্র। এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে এবং সরকার কী ধরনের আগাম ব্যবস্থা নেবে, তার ওপরই আসল পরিস্থিতি নির্ভর করছে।