
ডুব দে মন মাছ-সাগরে। যাঁরা ভাবেন, শুধুই রসনার তৃপ্তির জন্য় আমরা মাছেভাতে বাঙালি হয়েছি, তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করেন। স্বাদ,গন্ধ আর বর্ণের পাশাপাশি গুণেও কিছু কম যায় না বাঙালির মাছ। সবচেয়ে বড় কথা হল, মাছ হল সবচেয়ে সহজপাচ্য প্রোটিন। যে কারণে, পেট খারাপের পর হালকা করে মাছের ঝোল দিয়ে ভাত খাওয়ার নিদান দেন মা-ঠাকুমারা।
জেনে রাখবেন, এখন ডাক্তাররাও পেটের অসুখে ভুগতে থাকা অনেক নিরামিশাষীকে মাছভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, পাঁচরকম ডাল আর তেল-ঘিয়ের চাইতে মাছ হজম করা অনেক সহজ। আর পুষ্টিগুণ নিয়ে যত কম বলা যায় ততই ভাল।
মাছে সাধারণত ফ্য়াটের পরিমাণ থাকে কম। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আর মহার্ঘ ওমেগা-থ্রি ফ্য়াটি অ্য়াসিড। শুধু চোখ, মস্তিষ্ক আর হার্টের জন্য়ই এই ওমেগার-থ্রির সুখ্যাতি আছে, এমনটা নয়। সেইসঙ্গে জানা যাচ্ছে, এই ওমেগা-থ্রি ক্য়ানসারের সম্ভাবনা ৩০ থেকে৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। তাই নিয়মিত মাছ খান। হাঁপানি আর প্রোস্টেট ক্য়ানসারের হাত থেকেও রেহাই পেতে পারবেন তাহলে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে। রক্তে শর্করার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকবে মাছ খেলে। তাই সপ্তাহে যে-কদিন পারেন মাছ খান। জেনে রাখবেন, মন ভাল রাখতেও মাছের জুড়ি মেলা ভার। এমনকি, মানসিক কষ্ট কমিয়ে একাকিত্ব দূর করতেও মাছের কোনও বিকল্প নেই।
কমবেশি যে কোনও মাছেই থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম আর ফসফরাস। আমাদের হাড়ের পুষ্টি জোগাতে এদের কোনও বিকল্প নেই। অস্টিওপোরোসিসের মতো হাড়ের অসুখে এই ক্যালশিয়াম আর ফসফরাসই একমাত্র ভরসা বলা যেতে পারে। আসুন একবার জেনে নেওয়া যাক, কোন মাছে কী পরিমাণ ক্য়ালশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন আর ভিটামিন রয়েছে।
একসময়ে যার তেমন কৌলিন্য ছিল না, সেই পুঁটিমাছের দাম এখন ৩০০টাকা কেজি ছাড়িয়েছে। ওই দামেও যে বাজারে রোজ রোজ পাওয়া যায়, তা কিন্তু নয়। আসলে চুনোপুঁটির এই দর বাড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। জানেন ওই একটা ছোট্ট একটা পুঁটিতে কী কী রয়েছে? বলি তাহলে। প্রতি ১০০ গ্রাম পুঁটি মাছে রয়েছে ১৮.৯ গ্রাম প্রোটিন, ২.৪ গ্রাম ফ্য়াট, ৩.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৯৬ গ্রাম লোহা, ১.০৬ গ্রাম ক্য়ালশিয়াম, ০.৯৫ গ্রাম ফসফরাস, ৩৭ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন। পুঁটির জাতভাই মৌরলাও কিন্তু গুণে কিছু কম যায় না। প্রতি ১০০ গ্রাম মৌরলা মাছে ১৫.৮ গ্রাম প্রোটিন, ৪.১ গ্রাম ফ্য়াট, ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.০০৭ গ্রাম লোহা, ১.৭১ গ্রাম ক্যালশিয়াম আর ১০৬০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন।
চুনোপুঁটির কদর কেন বাড়বে না এবার বুঝলেন? এবার আসা যাক রুই-কাতলার কথায়। প্রতি ১০০ গ্রাম রুই মাছে থাকে ১৬.৬ গ্রাম প্রোটিন, ১.৪ গ্রাম ফ্য়াট, ৪.৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.০০০৯ গ্রাম লোহা, ০.৬৮ গ্রাম ক্য়ালশিয়াম আর ০.১৫ গ্রাম ফসফরাস। পিছিয়ে নেই কাতলাও। প্রতি ১০০ গ্রাম কাতলা মাছে থাকে ১৯.৫ গ্রাম প্রোটিন , ২.৪ গ্রাম ফ্য়াট, ৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.০০০৯ গ্রাম লোহা, ০.৫৩ গ্রাম ক্য়ালশিয়াম, ০.২১ গ্রাম ফসফরাস।
বাপরে বাপ! মাছের এত গুণ আছে জানলে ভানু বন্দ্যোপাধ্য়ায় নির্ঘাত বলে বসতেন, "মাসীমা মাছভাজা খামু।"
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News