
মেদ ঝরানোর আশায় অনেকেই কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খান। অথচ সরাসরি চর্বি পোড়াতে সেগুলো কার্যকর হয় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্লেভার্ড যোগুর্ট, ফলের রস (প্যাকেটজাত), এবং তথাকথিত "লো-ফ্যাট" বা ডায়েট স্ন্যাকস। এগুলি অতিরিক্ত ক্যালোরি ও চিনি ধারণ করে, যা ওজন কমানোর পরিবর্তে মেদ বাড়ায়। সঠিক ডায়েট ও ব্যায়ামই আসল উপায়।
১. ফ্লেভার্ড ইয়োগার্ট বা দই (Fruit-flavored yogurt): দই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও, ফ্লেভার্ড ইয়োগার্ট প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে। একটি ৬ আউন্সের কন্টেইনারে প্রায় ৩১ গ্রাম পর্যন্ত চিনি থাকতে পারে, যা মেদ বাড়ায়।
** বিকল্প: চিনি ছাড়া সাধারণ দই (Plain or Greek yogurt) খাওয়া ভালো।
২. প্যাকেটজাত ফলের রস ও স্মুদি: মনে করা হয় ফলের রস স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো, কিন্তু প্যাকেটজাত রসে প্রচুর চিনি থাকে এবং ফলের আসল ফাইবার বা আঁশ থাকে না। ফাইবার না থাকায় এই ক্যালোরি দ্রুত মেদে রূপান্তর হয়।
৩. লো-ফ্যাট বা ডায়েট স্ন্যাকস (Refined grains/low-fat packed snacks): চর্বি কম আছে এমন অনেক খাবার (যেমন- কুকিজ বা চিপস) আসলে প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট দিয়ে তৈরি। "লো-ফ্যাট" মানেই ক্যালোরি কম নয়, এতে স্বাদের জন্য অতিরিক্ত চিনি বা লবণ থাকে যা শরীরকে মোটা করে ।
কেন এই খাবারগুলো সরাসরি কাজ করে না? ওজন কমানোর মূল মন্ত্র হলো ক্যালোরি ঘাটতি (Calories Deficit) তৈরি করা। এই খাবারগুলো পুষ্টিকর না হওয়ায় খিদে নিয়ন্ত্রণ করে না, ফলে বারবার খিদে লাগে এবং বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয়ে যায়।
* ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: শাকসবজি, ফলমূল এবং ডাল বেশি খান। * প্রোটিন: মাছ, ডিমের সাদা অংশ, ডাল পাতে রাখুন। * পর্যাপ্ত জল ও গ্রিন টি: মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে।
শুধু একটি বা দুটি খাবার খেয়ে মেদ ঝরানো অসম্ভব; এর জন্য সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন প্রয়োজন।