Eyesight Relaxation: বর্তমান পরিসরে স্ক্রিন টাইম বেড়েছে অনেকটাই। কাজ থেকে বিনোদন— সবটাই হয় মোবাইল, কম্পিউটার পর্দায় চোখ রেখে। চাপ পড়ে চোখেও। এমন পরিস্থিতিতে কী ভাবে নিজেই চোখের যত্ন নেবেন।
Eyesight Relaxation: ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে (কম্পিউটার/মোবাইল) কাজের ফলে চোখ শুষ্ক হওয়া, মাথাব্যথা ও দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার (কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম) ঝুঁকি বাড়ে। চোখের যত্নে প্রতি ২০ মিনিটে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকার (২০-২০-২০ নিয়ম) অভ্যাস করুন। নিয়মিত চোখের পলক ফেলা, স্ক্রিন থেকে দূরত্ব বজায় রাখা, ব্লু-লাইট ফিল্টার চশমা ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি।
বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হল:
১. ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ): টানা ২০ মিনিট স্ক্রিনের দিকে তাকানোর পর, ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এটি চোখের পেশীগুলিকে শিথিল করে এবং টানটান ভাব (strain) কমায়।
২. চোখের পলক ফেলা ও চোখের শুষ্কতা রোধ: কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের সময় আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম চোখের পাতা ফেলি, যার ফলে চোখ শুকিয়ে যায়। সচেতনভাবে মিনিটে অন্তত ১৫-২০ বার চোখের পাতা ফেলুন। চোখ শুষ্ক লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লুব্রিকেটিং আই ড্রপ (কৃত্রিম অশ্রু) ব্যবহার করুন।
৩. পর্দার দূরত্ব ও কাজের পরিবেশ (Ergonomics):
* দূরত্ব: কম্পিউটার স্ক্রিন আপনার চোখ থেকে প্রায় ২০-২৬ ইঞ্চি বা এক হাত দূরত্বে রাখুন। মোবাইল খুব কাছে ধরে দেখবেন না। * দৃষ্টির কোণ: মনিটরের ওপরের অংশ চোখের সমান্তরালে বা কিছুটা নিচে রাখুন, যাতে সামান্য নিচু হয়ে তাকাতে হয়। * আলো: ঘরের আলো যেন সরাসরি স্ক্রিনে না পড়ে, এতে গ্লেয়ার (Glare) বা ঝিলিক কমে।
৪. স্ক্রিন সেটিং ও চশমার ব্যবহার:
* ব্লু লাইট ফিল্টার: ল্যাপটপ বা মোবাইলের 'Night Light' বা 'Blue Light Filter' মোড অন রাখুন, যা ক্ষতিকর নীল আলো কমায়।
* ব্রাইটনেস: ঘরের আলোর সাথে মানানসই করে স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমান বা বাড়ান। খুব উজ্জ্বল স্ক্রিন চোখের ক্ষতি করে । * চশমা: প্রয়োজনে 'Anti-reflective' বা ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা ব্যবহার করুন।
৫. কাজের মাঝে বিরতি: একটানা ২ ঘণ্টা কাজ করলে অন্তত ১৫ মিনিটের একটি ব্রেক নিন। এই সময়ে চোখ বন্ধ করে রাখুন বা একটু হেঁটে আসুন।
৬. চোখের ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য:
* মাঝে মাঝে চোখ ধুয়ে ফেলুন, তবে সরাসরি কলের জলের চেয়ে পরিষ্কার জল বা চিকিৎসকের পরামর্শে আই ড্রপ ভালো। * প্রচুর জল পান করুন যাতে চোখ হাইড্রেটেড থাকে। * ভিটামিন এ (ভিটামিন A) সমৃদ্ধ খাবার যেমন—গাজর, শাকসবজি, মাছ খান।
৭. নিয়মিত চেকআপ: বছরে অন্তত একবার চক্ষু বিশেষজ্ঞের (Ophthalmologist) কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করান।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি দীর্ঘসময় ধরে চোখ ব্যথা, খুব বেশি লাল হয়ে যাওয়া, বা দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে থাকার সমস্যা থেকে যায়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


