আমাদের শরীরের সব অংশে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছে দেয় হার্ট। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঙ্গ। বর্তমানে সারা বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই হৃদরোগ। তাই হার্ট ভালো রাখা ভীষণ জরুরি।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হার্টের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। নয়ডার কৈলাশ হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. সুনীল কুমার মণ্ডল এমন ৫টি অভ্যাসের কথা বলেছেন, যা নীরবে আমাদের হার্টের বারোটা বাজাচ্ছে।
37
ফলের রস বা স্মুদি খাওয়ার অভ্যাস হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গোটা ফল হার্টের জন্য ভালো হলেও ফলের রস কিন্তু মোটেও উপকারী নয়। জুস বানানোর সময় ফলের ফাইবার বাদ পড়ে যায় এবং এতে শর্করার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এমনটা চললে ওজন বৃদ্ধি, শরীরে প্রদাহ এবং ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়তে পারে। এমনকি বাজারের কেনা স্মুদিতে কোল্ড ড্রিঙ্কসের মতোই প্রচুর চিনি থাকে।
47
'সুগার ফ্রি' লেখা স্ন্যাকসও হার্টের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
প্যাকেটজাত খাবারের লেবেল অনেক সময়ই আমাদের বিভ্রান্ত করে। ফ্যাট-ফ্রি খাবারের স্বাদ বাড়াতে কোম্পানিগুলো এতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, সোডিয়াম বা রিফাইন্ড স্টার্চ মেশায়। এমনকি 'সুগার ফ্রি' লেখা স্ন্যাকসও অনেক বেশি প্রসেসড হয়। এগুলো খেলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।
57
পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া অতিরিক্ত ব্যায়াম হার্টের ওপর চাপ ফেলে।
হার্ট ভালো রাখতে ব্যায়াম করা খুব জরুরি। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নিয়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমে চাপ পড়ে। এতে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় এবং কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়া বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করুন এবং বিশ্রামের জন্য সময় রাখুন। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখলে তা একদম এড়িয়ে যাবেন না।
67
বারবার খাবার এড়িয়ে গেলে পরে একসঙ্গে বেশি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
না খেয়ে থাকলে ওজন তো কমেই না, উল্টে তা শরীরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বারবার মিল স্কিপ করলে পরে একসঙ্গে অনেকটা খাবার খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। কার্ডিওলজিস্টরা জানাচ্ছেন, এর ফলে মেটাবলিজম নষ্ট হয় এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগার বেড়ে যায়। তাই মেটাবলিজম ঠিক রাখতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুষম খাবার খাওয়া উচিত।
77
রাতে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমোলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
ঘুমের অভাব সরাসরি হার্টের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, রাতে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমোলে উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোন বেড়ে যায়। এর ফলে মানুষ বেশি খায় এবং ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলে।