ফ্রিজের বৈদ্যুতিক গোলযোগ, গ্যাস লিক বা ভুল কানেকশনের মতো কিছু সমস্যা থেকে আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফ্রিজ ব্যবহারের সময় যে ৭টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, তা জেনে নিন।
ফ্রিজ ফাটতে পারে? কথাটা শুনে একটু অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। ফ্রিজে থাকা রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস, ইলেকট্রিক কানেকশন বা কম্প্রেসারের গোলযোগ থেকে আগুন বা বিস্ফোরণের মতো বড় বিপদ ঘটতে পারে।
আজকালকার আধুনিক ফ্রিজগুলোতে R600a (আইসোবিউটেন) নামের রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এটি অত্যন্ত দাহ্য। কুলিং সিস্টেমে কোনো ক্ষতি হলে এবং গ্যাস লিক করে আগুনের সংস্পর্শে এলে বড় বিপদ হতে পারে। তাই ফ্রিজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন না, তা জানা খুব জরুরি।
27
২. ছেঁড়া বা ড্যামেজ তার থেকে বড় বিপদ!
ফ্রিজের তার বা প্লাগে কোনো কাটা দাগ, গলে যাওয়া প্লাস্টিক বা পোড়া দাগ দেখলে মোটেও হালকাভাবে নেবেন না। ড্যামেজ তার থেকে শর্ট সার্কিট হয়ে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ফ্রিজে আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে।
তার ছিঁড়ে গেলে নিজে টেপ জড়িয়ে চালানোর চেয়ে একজন ভালো ইলেকট্রিশিয়ান ডেকে মেরামত করানোই সবচেয়ে নিরাপদ। প্লাগ বা সকেট অতিরিক্ত গরম হলেও সেটাকে অবহেলা করবেন না।
37
৩. এক সকেটে অনেকগুলো যন্ত্র জুড়বেন না!
যে সকেটে ফ্রিজ চলছে, সেখানে মাল্টিপ্লাগ বা এক্সটেনশন বোর্ড লাগিয়ে মিক্সি, মাইক্রোওয়েভ বা কুকারের মতো ভারী যন্ত্র চালানো একদমই উচিত নয়। এক লাইনে অতিরিক্ত লোড পড়লে সকেট বা প্লাগ গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে।
তাই ফ্রিজের জন্য আলাদা ও উন্নত মানের ওয়াল সকেট ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। কোম্পানিগুলোও ফ্রিজের জন্য এক্সটেনশন বোর্ড বা কমন সকেট ব্যবহার করতে বারণ করে।
পুরনো মডেলের ফ্রিজের ডিপ ফ্রিজারে অতিরিক্ত বরফ জমা খুব সাধারণ সমস্যা। অনেকেই তাড়াতাড়ি বরফ পরিষ্কার করতে ছুরি বা ধারালো কিছু ব্যবহার করেন। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি কাজ। বরফ ভাঙার সময় ছুরি ভুল করে কুলিং পাইপে লেগে গেলে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক করতে পারে।
যেসব ফ্রিজে R600a-এর মতো দাহ্য গ্যাস থাকে, সেখানে এই বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। বরফ জমলে ম্যানুয়ালে দেওয়া নিয়ম মেনে তা গলতে দিন। ছুরি বা স্ক্রু ড্রাইভারের মতো ধারালো জিনিস একদম ব্যবহার করবেন না।
57
৫. গ্যাস লিক করলে কী করবেন?
ফ্রিজের কুলিং সিস্টেম ড্যামেজ হলে গ্যাস লিক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যদি গ্যাস লিক হচ্ছে বলে সন্দেহ হয়, তবে আশেপাশে দেশলাই, লাইটার বা আগুন জ্বালাতে পারে এমন কোনো জিনিস ব্যবহার করবেন না। আর নিজে নিজে ফ্রিজের কুলিং পাইপ ঠিক করার চেষ্টাও করবেন না।
গ্যাস লিক বা কুলিং সিস্টেমে কোনো সমস্যা দেখলে ঘরের জানালা-দরজা খুলে হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা করুন। এরপর একজন দক্ষ টেকনিশিয়ানকে ডেকে পরীক্ষা করান। সবচেয়ে বড় কথা, লিক সন্দেহ হলে আগুন বা স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে পারে এমন কাজ থেকে দূরে থাকুন।
67
৬. দেওয়ালের সঙ্গে একেবারে ঠেকিয়ে ফ্রিজ রাখবেন না!
ফ্রিজের পিছনের দিকে কম্প্রেসারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ থাকে। ফ্রিজ চলার সময় এগুলো থেকে তাপ বের হয়। সেই তাপ বেরোনোর পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে ফ্রিজকে দেওয়ালের সঙ্গে একেবারে ঠেকিয়ে রাখলে হাওয়া চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
এর ফলে ফ্রিজ যে সঙ্গে সঙ্গে ফেটে যাবে, তা নয়। তবে হাওয়া চলাচলের জায়গা না থাকলে যন্ত্রের কাজ করার ক্ষমতা ও তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খারাপ হতে পারে। তাই আপনার ফ্রিজের ম্যানুয়ালে বলা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে চলুন। ফ্রিজের পিছনে জিনিসপত্র জড়ো করে রাখাও এড়িয়ে চলুন।
77
৭. এই লক্ষণগুলো দেখলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হোন!
ফ্রিজে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার আগেই কিছু সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা যায়।
প্লাগ বা সকেট অতিরিক্ত গরম হওয়া
পোড়া প্লাস্টিক বা তারের গন্ধ বেরোনো
পিছন দিক থেকে অস্বাভাবিক আওয়াজ আসা
ফ্রিজ বারবার ইলেকট্রিক লাইন ‘ট্রিপ’ করানো
বিদ্যুৎ সংযোগ বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়া
ফ্রিজের ধাতব অংশে হাত দিলে শক লাগা
এর মধ্যে কোনো একটি লক্ষণ দেখলেও ছোট সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। বিশেষ করে ফ্রিজের বডিতে শক লাগলে বুঝতে হবে আর্থিং বা কারেন্ট লিকের সমস্যা রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজ বন্ধ করে একজন ভালো ইলেকট্রিশিয়ানকে দিয়ে পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।