ধমনীর দেওয়ালে রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলা হয়। রক্তনালীর দেওয়ালে রক্ত যখন খুব বেশি জোরে ধাক্কা দেয়, তখন এই অবস্থা তৈরি হয়।
উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
ধমনীর দেওয়ালে রক্তের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন (Hypertension) বলে। রক্তনালীর দেওয়ালে রক্ত খুব বেশি জোরে ধাক্কা দিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এটি যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন খাবার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
28
বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট থাকে।
বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট থাকে। শরীর এই নাইট্রেটকে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত করে। এই যৌগটি রক্তনালীকে প্রসারিত ও নমনীয় করে তোলে, যার ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিস্টোলিক রক্তচাপ কমে যেতে পারে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ মিলিলিটার বিটরুটের রস বা গোটা বিট খেলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
38
একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কলা খুব উপকারী। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৪২২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দেয় এবং রক্তনালীর দেওয়ালের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করে।
48
ডাল জাতীয় শস্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ডাল জাতীয় শস্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্যকারী অন্যতম পুষ্টিকর খাবার। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার এবং প্রোটিন থাকে। এই খাবারগুলি পেট ভরা রাখতেও সাহায্য করে। নিয়মিত ডাল খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে। প্রতিদিন এক কাপের চার ভাগের এক ভাগ (প্রায় ৫৫-৭০ গ্রাম) ডাল খেলেও রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি কমে যায়।
58
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ব্রকোলি খুব ভালো।
যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য ব্রকোলি খুব উপকারী। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়াম রয়েছে, যা রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এতে ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।
68
ওটস খারাপ কোলেস্টেরল কমায় এবং রক্তনালীকে নমনীয় করে।
ওটস খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তনালীকে নমনীয় রাখতে সাহায্য করে। ওটসে 'অ্যাভেনানথ্রামাইডস' (avenanthramides) নামক একটি বিশেষ উদ্ভিদ যৌগ থাকে, যা রক্তনালীর প্রদাহ কমায়। নিয়মিত ওটস খেলে সিস্টোলিক রক্তচাপ ২ থেকে ৩ mm Hg পর্যন্ত কমতে পারে। অন্তত আট সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ওটস খেলে রক্তনালীর কার্যকারিতা বাড়ে, কোলেস্টেরল কমে এবং শরীরের প্রদাহ কমে।
78
স্যামনের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রচুর পরিমাণে থাকে।
স্যামনের মতো তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের দারুণ উৎস। এই উপাদানটি শরীরের প্রদাহ (inflammation) কমায় এবং রক্তনালীর কার্যকারিতা ঠিক রেখে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। স্যামনে থাকা ওমেগা-৩ প্রদাহ কমিয়ে রক্তচাপকে স্বাস্থ্যকর মাত্রায় রাখতে পারে।
88
হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শাকসবজি খাওয়া খুব সহজ একটি উপায়।
শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে। এই উপাদানগুলি শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে এবং রক্তনালীকে শিথিল করতে সাহায্য করে। হার্টের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার একটি সহজ উপায় হলো রোজকার ডায়েটে সবুজ শাকসবজি রাখা।