রোজ ফ্ল্যাক্স সিড ভেজানো জল খেলে অনেক রোগ দূরে থাকে। এই বীজে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়— দু'ধরনের ফাইবারই থাকে। দ্রবণীয় ফাইবার মল নরম করে পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে এই জল খেলে হজমশক্তি বাড়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং অন্ত্র ভালো থাকে।
28
রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকা মানেই টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। অতিরিক্ত ওজন এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ফ্ল্যাক্স সিড ভেজানো জল খেলে এই সমস্যা এড়ানো যায়। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমানোর পাশাপাশি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে দারুণ কাজ করে।
38
অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে
ফ্ল্যাক্স সিডে থাকা দ্রবণীয় ফাইবারের বেশিরভাগই হলো 'মিউসিলেজ'। জলের সংস্পর্শে এলে এই মিউসিলেজ জেলের মতো হয়ে যায়। এটি পাকস্থলী ও অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার যাওয়ার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে এবং বারবার খাওয়ার ইচ্ছে কমে।
48
কোলেস্টেরল ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হলো পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা হার্টের রোগ ও স্ট্রোক রুখতে সাহায্য করে। ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড (ALA) নামের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানটি খারাপ কোলেস্টেরল, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে দারুণ উপকারী।
58
ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় ফাইবার
ফ্ল্যাক্স সিডে থাকা প্রচুর পরিমাণ ফাইবার কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। রোজকার ডায়েটে প্রতি ১০ গ্রাম ফাইবার বাড়ালে এই ক্যানসারের ঝুঁকি ৭ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ, টিউমারের বৃদ্ধি কমানো এবং ক্যানসার রোগীদের মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতেও এটি সাহায্য করে।
68
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে
টানা ১২ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে ফ্ল্যাক্স সিড ভেজানো জল খেলে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল হার্টের রোগের প্রধান কারণ। এই জল খেলে শরীরে হাই-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (HDL) বা 'গুড কোলেস্টেরল'-এর মাত্রাও বাড়ে।
78
পেটের মেদ ঝরায় ও ওজন কমায়
পেটের মেদ ঝরাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই জল দারুণ কাজ করে। ফাইবার সমৃদ্ধ ফ্ল্যাক্স সিড শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমতে দেয় না। পাশাপাশি এটি খিদেকেও নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে ওজন কমানো সহজ হয়।
88
কতটা পরিমাণ খাওয়া নিরাপদ?
যেকোনো জিনিসই সঠিক পরিমাণে খাওয়া উচিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে মাত্র ১ থেকে ২ টেবিল চামচ ফ্ল্যাক্স সিড খাওয়া নিরাপদ। এটি এক কাপ বা ২৫০ মিলি জলে ভিজিয়ে রেখে খাওয়া যেতে পারে।