আজকাল বাজারে হাজারো সাবান আর বডি ওয়াশ। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন এসব কিছুই ছিল না। তখন ভারতীয়রা কীভাবে নিজেদের পরিষ্কার রাখত? স্নানের জন্য কী ব্যবহার করত? আসুন, জেনে নিই সেই সব অবাক করা তথ্য।
সাবান আসার আগে ভারতীয়রা পরিষ্কার থাকার জন্য প্রকৃতির উপরই ভরসা করত। তারা গাছ, লতাপাতা, ফলের বীজ থেকে স্নানের উপাদান খুঁজে নিত। এই সব প্রাকৃতিক জিনিস ত্বকের ক্ষতি না করেই শরীর পরিষ্কার রাখত।
26
রিঠা (Soap Nut) – প্রাকৃতিক সাবান হিসেবে ব্যবহার
প্রাচীন ভারতে রিঠা বা সোপ নাটস খুব জনপ্রিয় ছিল। রিঠা জলে ভেজালে বা ফোটালে প্রাকৃতিক ফেনা তৈরি হয়, যা সাবানের মতো কাজ করে। এটি দিয়ে শরীর ও চুল দুই-ই পরিষ্কার করা হত। এতে কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকত না।
36
শিকাকাই – চুল পরিষ্কারের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি
শিকাকাই মূলত চুল পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হত। অনেকে একে 'হেয়ার ফ্রুট' বা চুলের ফলও বলত। শিকাকাই চুল থেকে ময়লা ও অতিরিক্ত তেল দূর করত এবং স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখত।
উবটান, মুলতানি মাটি – ত্বকের যত্নের প্রাকৃতিক উপায়
বেসন, হলুদ, চন্দন, দুধ বা দুধের সর মিশিয়ে উবটান তৈরি করা হত। এটি গায়ে মেখে স্নান করলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হত। মুলতানি মাটিও ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নিয়ে ত্বককে পরিষ্কার রাখত। গ্রামের দিকে অনেকে কাঠের ছাইও ব্যবহার করত।
56
তেল মালিশের পর পরিষ্কার করার ঐতিহ্য
আরেকটি প্রচলিত পদ্ধতি ছিল শরীরে তেল মালিশ করা। এরপর ভেষজ গুঁড়ো বা মাটি দিয়ে ঘষে শরীর পরিষ্কার করা হত। এই পদ্ধতিতে শরীর যেমন আরাম পেত, তেমনই ত্বকের স্বাস্থ্যও ভাল থাকত।
66
ভারতে আধুনিক সাবানের সূচনা
ভারতে আধুনিক সাবানের প্রচলন হয় উনিশ শতকের শেষের দিকে। লিভার ব্রাদার্সের মতো কোম্পানিগুলো 'লাইফবয়'-এর মতো পণ্য বাজারে আনে। ১৮৯৭ সালে মিরাটে ভারতের প্রথম সাবান কারখানা তৈরি হয়। পরে জামসেদজি টাটা এবং আরদেশির গোদরেজের মতো শিল্পপতিরা স্বদেশী ভাবনায় উদ্ভিজ্জ সাবান তৈরি শুরু করেন।