স্কুলে বন্ধুরা ব্যঙ্গ করছে? সন্তানের মধ্যে এই ৬টা লক্ষণ দেখলে আর দেরি করবেন না

Published : Jul 14, 2026, 05:31 PM IST
bullying

সংক্ষিপ্ত

পুণের ঘটনার পর একটা কথাই স্পষ্ট, বাচ্চারা কষ্ট চেপে রাখে। মুখে না বললেও ব্যবহারেই ধরা পড়ে। এই ৬টা সংকেত চোখে পড়লে আজই কথা বলুন। সমস্যা হল বাচ্চারা ভয়ে বা লজ্জায় কিছু বলে না। তাই ওরা কাজে-কর্মে বুঝিয়ে দেয়। বাড়িতে ফিরে যদি এই ৬টা বদল দেখেন, তাহলে বুঝবেন কিছু একটা গড়বড় হচ্ছে।

"স্কুল ঠিক আছে তো?" উত্তরে শুধু "হ্যাঁ"। ব্যস, আমরা ধরে নিই সব ঠিক আছে। কিন্তু পুণেতে যা ঘটল তারপর বোঝা যাচ্ছে, সব কষ্ট বাচ্চারা বলে বোঝাতে পারে না। ক্লাসের মধ্যে নাম ধরে টোন, গ্রুপে না নেওয়া, জিনিস লুকিয়ে দেওয়া, এই ছোট ছোট ব্যঙ্গগুলোই একটা সময়ে পাহাড় হয়ে যায়।

সমস্যা হল বাচ্চারা ভয়ে বা লজ্জায় কিছু বলে না। তাই ওরা কাজে-কর্মে বুঝিয়ে দেয়। বাড়িতে ফিরে যদি এই ৬টা বদল দেখেন, তাহলে বুঝবেন কিছু একটা গড়বড় হচ্ছে।

প্রথমে দেখুন স্কুলে যেতে চাইছে কিনা। আগে যে বেরোনোর জন্য ছটফট করত, সে এখন রোজ পেট ব্যথা, মাথা ব্যথার অজুহাত দিচ্ছে। ব্যাগ, খাতা, জামা ছেঁড়া-ফাটা হয়ে আসছে। এটাকে শুধু দুষ্টুমি ভেবে চুপ করে থাকবেন না।

দ্বিতীয়ত খাওয়া-ঘুমের হিসাব। রাতে বারবার ঘুম ভাঙছে, দুঃস্বপ্ন দেখছে, নয়তো সারাদিন ঝিমোচ্ছে। খাবারের প্লেট অর্ধেক রয়ে যাচ্ছে, অথবা ফ্রিজ খুলে সবসময় কিছু খুঁজছে। মানসিক চাপ সবার আগে পেট আর ঘুমের বারোটা বাজায়।

তৃতীয় হল ব্যবহার। হাসিখুশি বাচ্চাটা হঠাৎ চুপ হয়ে গেছে। কথায় কথায় রেগে যাচ্ছে, জিনিস ভাঙছে। আবার কেউ কেউ খুব বেশি "ভালো" হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, যাতে কেউ আর কিছু না বলে।

চতুর্থ উপসর্গ হল নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। বন্ধুদের ফোন ধরছে না, খেলতে যাচ্ছে না, ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে আছে। ভিতরে ভিতরে সে নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করেছে।

পঞ্চমত রেজাল্ট। পড়ায় মন নেই। যে অঙ্কে আগে ৯০ পেত এখন ৩৫। খাতা হারাচ্ছে, হোমওয়ার্ক করছে না। কারণ মাথায় ২৪ ঘণ্টা চলছে "কাল স্কুলে আবার কী হবে"।

সবশেষে সবচেয়ে সিরিয়াস কথাটা। যদি কখনও বলে "আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে" বা "আমি না থাকলেই ভালো হয়", তাহলে সেটা কখনওই মজা ভাববেন না। সঙ্গে সঙ্গে পাশে বসুন।

*তাহলে এখন কী করবেন?*

চিৎকার করে "কার নামে নালিশ করব" বলবেন না। আগে ওকে ভরসা দিন। বলুন "তোমার কোনো দোষ নেই, আমি আছি"। জোর করে ফোন ঘাঁটবেন না। স্কুলের দিদিমনি আর কাউন্সেলরের সাথে কথা বলুন। প্রয়োজন হলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

বুলিং মানে শুধু মারধর নয়। কথার আঘাত শরীরের আঘাতের চেয়েও গভীর হয়। পুণের ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সময় থাকতে সন্তানের বন্ধু হন।

বাড়ি ফিরে শুধু "কেমন হল" নয়, "আজ কেউ তোমায় কষ্ট দিয়েছে?" এটা জিজ্ঞাসা করুন।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

একটু জ্বর-সর্দিতেই গুগলে "মারাত্মক রোগ" বলে খোঁজেন? আপনি ‘সাইবারকোন্ড্রিয়া’র ফাঁদে পড়েননি তো
শ্রাবণ মাসে সাপ দেখা শুভ নাকি অশুভ? শাস্ত্র আর লোকবিশ্বাস কী বলছে জেনে নিন