একটু জ্বর-সর্দিতেই গুগলে "মারাত্মক রোগ" বলে খোঁজেন? আপনি ‘সাইবারকোন্ড্রিয়া’র ফাঁদে পড়েননি তো

Published : Jul 14, 2026, 04:05 PM IST
what is cyberchondria searching deadly diseases on google

সংক্ষিপ্ত

মাথা ব্যথা হলেই "ব্রেন টিউমার", পেটে ব্যথা হলেই "আলসার"। উপসর্গ দেখেই গুগল করে নিজেকে অসুস্থ ভাবার এই নতুন রোগের নাম সাইবারকোন্ড্রিয়া।

রাতের বেলা হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। বুকের মধ্যে একটু চাপ লাগছে। আর যায় কোথায়। ফোনটা হাতে নিয়ে সোজা গুগলে টাইপ করলেন "বুকের বাম দিকে ব্যথা"। সেকেন্ডের মধ্যে স্ক্রিনে ভেসে উঠল "হার্ট অ্যাটাকের ১০টি লক্ষণ"। ব্যস, ৫ মিনিটের মধ্যে আপনার গা দিয়ে দরদর করে ঘাম আর হার্টবিট বেড়ে গেল।

এই দৃশ্য খুব চেনা তাই না? আমরা এখন ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে প্রথমে যাই গুগলের কাছে। আর এই অভ্যাসেরই একটা নাম দিয়েছেন ডাক্তাররা। নাম সাইবারকোন্ড্রিয়া। সহজ করে বললে, ইন্টারনেটে উপসর্গ সার্চ করে নিজের ভয়ংকর অসুখ আছে ভেবে অযথা টেনশন করাটাই হল সাইবারকোন্ড্রিয়া। শব্দটা এসেছে Cyber আর Hypochondria মিলিয়ে। আগে আমাদের ঠাকুমা-দাদুরা পাড়ার অভিজ্ঞ লোকের কাছে উপসর্গ বলতেন। এখন আমরা সেটাই করি গুগল আর ইউটিউবের সাথে।

কিন্তু মুশকিল হল গুগল সবসময় সবচেয়ে খারাপ রেজাল্টটাই আগে দেখায়। কারণ "সাধারণ গ্যাস" লিখে কেউ সার্চ করে না, সবাই সার্চ করে "হার্ট অ্যাটাক"। তাই ১০টার মধ্যে ৯টাই হয় সামান্য সমস্যা, কিন্তু সার্চ করার পর মনে হয় আপনি বুঝি আর বাঁচবেন না।

বুঝবেন কীভাবে আপনি এই ফাঁদে পড়েছেন? নিজেকে তিনটে প্রশ্ন করুন। ছোটখাটো জ্বর, মাথা ধরা বা পেটের ব্যথা হলেই কি আপনি সঙ্গে গুগল খোলেন আর সবচেয়ে মারাত্মক রোগটা খোঁজেন? সার্চ করার পর কি আপনার ভয় কমার বদলে আরও দশগুণ বেড়ে যায়? আর ডাক্তার যদি বলেন "এটা কিছু না, নরমাল" তবুও কি আপনি গুগলের কথাই বেশি বিশ্বাস করেন? এই তিনটের মধ্যে দুটো যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে বুঝবেন আপনি সাইবারকোন্ড্রিয়া’য় আক্রান্ত।

এটা শুধু সময় নষ্ট করে না, মানসিক শান্তিও নষ্ট করে। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে আপনার যে উপসর্গ সেটা খুবই সাধারণ। কিন্তু গুগলের আর্টিকেল পড়ে আপনি নিজেকে মানসিকভাবে ১০০ শতাংশ অসুস্থ বানিয়ে ফেলেন। তার উপর নেটে সব তথ্য সঠিকও হয় না। অনেক ওয়েবসাইট ভয় দেখিয়ে ভিউ বাড়ায়। আর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হল এর ফলে আসল ডাক্তারের কাছে যেতে দেরি হয়ে যায়।

তার মানে কি গুগল একদম ব্যবহার করা যাবে না? তা নয়। ব্যবহারের নিয়মটা পাল্টাতে হবে। শরীর খারাপ লাগলে প্রথমে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। ডাক্তার কী বললেন সেটা ভালো করে বোঝার জন্য তারপর গুগল করুন। ডাক্তারের বদলে গুগলকে ডায়াগনোসিস করতে দেবেন না। আর সার্চ করার সময় "বুক ব্যথা ক্যান্সার" না লিখে লিখুন "বুক ব্যথার সাধারণ কারণ"। WHO, Apollo বা বড় হাসপাতালের ওয়েবসাইট ছাড়া র‍্যান্ডম ব্লগে ঢুঁ মারবেন না। আর দিনে ১০ মিনিটের বেশি স্বাস্থ্য নিয়ে সার্চ করবেন না।

গুগল হল একটা লাইব্রেরি, ডাক্তার নয়। লাইব্রেরির বই পড়ে যেমন নিজে নিজে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায় না, তেমনই গুগল ঘেঁটে নিজে ডাক্তারও হওয়া যায় না। শরীরের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় ভরসা রাখুন অভিজ্ঞ ডাক্তারের উপর।

মনে রাখবেন, ইন্টারনেটে প্রতিটা রোগের শেষে "ক্যান্সার" লেখা থাকে। কিন্তু বাস্তব জীবনে ১০টার মধ্যে ৯টাই হয় গ্যাস, সর্দি বা ক্লান্তি।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

শ্রাবণ মাসে সাপ দেখা শুভ নাকি অশুভ? শাস্ত্র আর লোকবিশ্বাস কী বলছে জেনে নিন
Type 2 Diabetes: বাচ্চাকে প্রায়শই জাঙ্ক ফুড আর কোল্ড ড্রিঙ্কস দিচ্ছেন? শরীরে বাসা বাঁধছে কঠিন রোগ