শ্রাবণ মানেই শিবের মাস, আবার সাপেরও মাস। এই সময় সাপ দেখলে অনেকে ভয় পান, অনেকে আবার একে শুভ মনে করেন। আসল সত্যিটা কী?
বর্ষা শুরু হলেই শ্রাবণ মাস। আর শ্রাবণ মানেই চারিদিকে জল, কাদা আর সাপের আনাগোনা বেড়ে যায়। গ্রাম-বাংলায় এখনও অনেকেই বলেন "শ্রাবণে সাপ দেখলে অমঙ্গল"। আবার কেউ বলেন "নাগ দেবতার দর্শন পাওয়া খুব শুভ"। তাহলে আসলে কোনটা ঠিক?

শাস্ত্র আর পুরাণ কী বলছে:
হিন্দু শাস্ত্র মতে শ্রাবণ মাস ভগবান শিবের খুব প্রিয়। আর শিবের গলার ভূষণই হল সাপ, বাসুকি নাগ। তাই এই মাসে সাপকে অশুভ ভাবা হয় না। বরং নাগ দেবতাকে শিবের অংশ মনে করে শ্রদ্ধা করা হয়।
শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালন করা হয় নাগ পঞ্চমী। এই দিন নাগ দেবতার পুজো করে দুধ-কলা দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয় এই দিন নাগ দেবতাকে তুষ্ট করলে সাপের কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়, পরিবারে সুখ-শান্তি আসে।
তাই শাস্ত্র মতে শ্রাবণে সাপ দেখা অশুভ নয়। বরং অনেকে একে নাগ দেবতার সংকেত হিসেবে দেখেন। মনে করা হয় ভগবান আপনাকে কোনো বিপদ থেকে সতর্ক করছেন।
লোকবিশ্বাস আর গ্রাম বাংলার ধারণা
কিন্তু শাস্ত্রের পাশাপাশি লোকবিশ্বাসও আছে। বর্ষায় সাপেরা গর্ত থেকে বেরিয়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়। তাই এই সময় সাপের কামড়ের ঘটনা বেশি ঘটে।
এই কারণেই বয়স্করা বলেন:
১. শ্রাবণে সাপ দেখলে পিছনে ফিরে তাকাতে নেই। সোজা বাড়ি গিয়ে হাত-পা ধুয়ে নিতে হয়।
২. সাপ মারা অশুভ। নাগ দেবতাকে কষ্ট দিলে সংসারে অমঙ্গল আসে। তাই দেখলে সরিয়ে দিন, মারবেন না।
৩. স্বপ্নে সাপ দেখা শুভ। বিশেষ করে সাদা বা কালো সাপ দেখলে টাকা-পয়সা আসার যোগ।
তাহলে আসল কথা কী?
বিজ্ঞানের দিক থেকে দেখলে, শ্রাবণে বৃষ্টির জন্য সাপেরা বেরোয়। এটা স্বাভাবিক। ভয় পেয়ে মারতে গেলেই বিপদ।
আর বিশ্বাসের দিক থেকে দেখলে, শ্রাবণে সাপ দেখা অশুভ নয়। বরং একে সতর্কবার্তা আর শিবের আশীর্বাদ দুটোই মনে করা হয়।
আপনি কী করবেন যদি সাপ দেখেন
১. ভয় পেয়ে চিৎকার করবেন না বা মারতে যাবেন না।
২. ধীরে ধীরে সেখান থেকে সরে আসুন।
৩. বাড়িতে থাকলে "ওম নমঃ শিবায়" বা "ওম নাগ দেবতায় নমঃ" জপ করতে পারেন।
৪. পারলে পুজোর জায়গায় একটু দুধ-ফুল দিয়ে প্রণাম করুন।
শ্রাবণ মাসে সাপ দেখা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একে অশুভ ভাববেন না। বরং প্রকৃতির অংশ হিসেবে দেখুন আর সাবধান থাকুন। কারণ সাপও চায় না আপনাকে কামড়াতে, আপনিও চান না সাপকে মারতে।
