ঢেঁড়সের জলের উপকারিতা ও অপকারিতা কী কী? সুস্থ থাকতে কতটা লাভজনক এই পানীয়?

Published : Jun 18, 2025, 11:02 PM IST
ঢেঁড়সের জলের উপকারিতা ও অপকারিতা কী কী? সুস্থ থাকতে কতটা লাভজনক এই পানীয়?

সংক্ষিপ্ত

ঢেঁড়সের জলের উপকারিতা ও অপকারিতা কী কী? সুস্থ থাকতে কতটা লাভজনক এই পানীয়?

প্রতিটি সবজিরই স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী পুষ্টিগুণ রয়েছে। এই তালিকার একটি সবজি হল ঢেঁড়স। ঢেঁড়স ঝাঁকুনিপূর্ণ হওয়ায় অনেকে এটি খেতে পছন্দ করেন না। তবে এটি ভারতীয় রান্নায় বহুল ব্যবহৃত একটি সবজি। এটি সারা বছরই পাওয়া যায়। ঢেঁড়স দিয়ে নানা ধরনের রেসিপি তৈরি করা যায়।

ঢেঁড়স ঝাঁকুনিপূর্ণ হলেও এটি খুবই স্বাস্থ্যকর বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ঢেঁড়সের পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে হলে ঢেঁড়স জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করাই সবচেয়ে ভালো উপায় বলে অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বেশি সচেতন হওয়ায় অনেকেই ঢেঁড়সের জল পান করার অভ্যাস করেছেন।

ঢেঁড়সে আঁশ, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন কে ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এবার, ঢেঁড়স ভেজানো জল পান করার উপকারিতা এবং কারা এটি পান করা উচিত নয়, এবং ঢেঁড়সের জল তৈরি করার পদ্ধতি এই পোস্টে দেখে নেওয়া যাক।

ঢেঁড়সের জলের উপকারিতা:

১. হজমশক্তি বৃদ্ধি করে - ঢেঁড়সের জলে থাকা আঁশ অন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে

২. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে - ঢেঁড়সের জল গ্লুকোজ শোষণ ধীর করে তাই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৩. হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো - ঢেঁড়সের জলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আঁশ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৪. হাড় মজবুত করে - ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন কে থাকায় এটি হাড় মজবুত করে।

৫. ওজন কমাতে সাহায্য করে - ঢেঁড়সে থাকা প্রচুর পরিমাণে আঁশ এবং প্রোটিন পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে। তাই ওজন কমাতে চাইলে এই জল একটি ভালো পানীয়।

৬. ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো - ঢেঁড়সের জলে থাকা ভিটামিন, অ্যান্টিঅ্যালার্জিক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে, ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে, বার্ধক্যের লক্ষণ প্রতিরোধ করে এবং ব্রণের মতো ত্বকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

ঢেঁড়সের জলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

হজমের সমস্যা - ঢেঁড়সের জলে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় কারও কারও গ্যাস, পেট ব্যথা এবং পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে।

অ্যালার্জি - ঢেঁড়স কারও কারও অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। তাই তাদের ঢেঁড়সের জল পান করা উচিত নয়।

ফ্রুক্টান - ঢেঁড়সে প্রচুর পরিমাণে ফ্রুক্টান থাকায় কারও কারও হজমের সমস্যা হতে পারে।

কিডনিতে পাথর - ঢেঁড়সে থাকা অক্সালেট কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে। তাই কিডনির সমস্যা থাকলে ঢেঁড়সের জল পান করা এড়িয়ে চলুন।

ঢেঁড়সের জল তৈরির পদ্ধতি:

প্রথমে, ৫ টি ঢেঁড়সের ডগা কেটে ফেলে দিন এবং ঢেঁড়সগুলো চিরে দিন। এরপর একটি পাত্রে দুই গ্লাস জল ঢেলে ঢেঁড়সগুলো রাতভর ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে ঢেঁড়সগুলো তুলে ফেলে খালি পেটে জলটি পান করুন।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস:

- আপনি যদি প্রথমবার ঢেঁড়সের জল পান করেন, তাহলে অল্প পরিমাণে শুরু করুন।

- ঢেঁড়সের জল পান করার সময় যদি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তাহলে পান করা বন্ধ করে দিন।

- ঢেঁড়সের জল আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যুক্ত করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

PREV
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

ট্রেনের সফরে এই কয়েকটি ইলেকট্রিক জিনিস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি, হতে পারে জেল
আপনার সারমেয় সামনে যা পায় তাই চিবোয়? সতর্ক হন, কোন ধরনের খেলনা কিনবেন?