পৃথিবীর চেয়েও ভালো ঠিকানা মহাকাশে? প্রাণের সন্ধানে এবার নজর ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ গ্রহে

Published : Oct 17, 2026, 04:49 PM IST
Skyroot Aerospace Reflect Orbital contract

সংক্ষিপ্ত

পৃথিবীর চেয়েও বেশি বাসযোগ্য গ্রহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা। ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ নামে পরিচিত এই গ্রহগুলিতে প্রাণের বিকাশের পরিবেশ পৃথিবীর তুলনায় আরও অনুকূল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাতের আকাশে অসংখ্য নক্ষত্রের দিকে তাকালে একটা প্রশ্ন মনে আসতেই পারে। এই বিশাল মহাবিশ্বে কি পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ, যেখানে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে? নাকি আমাদের চোখের আড়ালে কোথাও রয়েছে এমন এক জগৎ, যেখানে জীবনের জন্য পরিস্থিতি পৃথিবীর চেয়েও অনুকূল? সেখানে হয়তো জলবায়ু তুলনায় স্থিতিশীল, তরল জলের উপস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী, আর প্রাণের বিবর্তনের জন্য সময়ও অনেক বেশি।

এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে বিজ্ঞানীরা এমন একটি সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করছেন, যা পৃথিবীকে প্রাণের জন্য সর্বোত্তম গ্রহ বলে ধরে নেওয়ার ধারণাকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় এই সম্ভাব্য জগৎগুলির নাম ‘সুপারহ্যাবিটেবল ওয়ার্ল্ড’। অর্থাৎ, এমন গ্রহ বা জগৎ, যেখানে জীবনের বিকাশের পরিস্থিতি পৃথিবীর তুলনায় আরও অনুকূল হতে পারে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। পৃথিবীর চেয়ে বেশি বাসযোগ্য কোনও গ্রহের সন্ধান এখনও নিশ্চিত হয়নি। বিজ্ঞানীরা আপাতত বিভিন্ন গ্রহের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে বোঝার চেষ্টা করছেন, প্রাণের বিকাশের জন্য পৃথিবীর পরিবেশই কি আদর্শ, নাকি প্রকৃতি অন্য কোথাও আরও ভালো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

পৃথিবীর বাইরে অন্য সম্ভাবনার কথা উঠল কেন?

আমাদের সৌরজগতে আটটি গ্রহ রয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর বাইরে কোথাও মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ এখনও পাওয়া যায়নি। শুক্রের পৃষ্ঠ অত্যন্ত উত্তপ্ত, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত পাতলা এবং বৃহস্পতি ও শনির মতো গ্রহের প্রধান অংশ গ্যাসীয়। ফলে পরিচিত সৌরজগতের মধ্যে পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ, যেখানে পৃষ্ঠে তরল জল এবং জীবনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতভাবে রয়েছে।

কিন্তু সৌরজগতের বাইরের ছবিটা অনেক বড়। অন্য নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করে চলা গ্রহগুলিকে বলা হয় বহির্গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট। দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই হাজার হাজার এমন গ্রহ শনাক্ত করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে পৃথিবীর কাছাকাছি আকারের পাথুরে গ্রহ, বিশাল গ্যাসীয় গ্রহ এবং এমন কিছু জগৎ, যাদের বৈশিষ্ট্য আমাদের সৌরজগতের গ্রহগুলির সঙ্গে মেলে না।

এই আবিষ্কারগুলি বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পৃথিবীর মতো গ্রহই কি প্রাণের জন্য সবচেয়ে ভালো, নাকি তার থেকে কিছুটা বড়, কিছুটা পুরনো এবং অন্য ধরনের নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা কোনও গ্রহে জীবনের জন্য আরও সুবিধাজনক পরিস্থিতি থাকতে পারে?

২০১৪ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী রেনে হেলার ও জন আর্মস্ট্রংয়ের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এই সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তাঁরা দেখান, পৃথিবীর চেয়ে বেশি বাসযোগ্য জগৎ থাকার সম্ভাবনাকে অনুসন্ধানের বাইরে রাখা উচিত নয়। গবেষণাটিতে এমন গ্রহের কথা বলা হয়, যেগুলি তুলনামূলক বেশি ভরের এবং দীর্ঘজীবী K-শ্রেণির নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করতে পারে। তবে এটি সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে তৈরি একটি গবেষণামূলক ধারণা, আবিষ্কৃত কোনও নিশ্চিত ‘দ্বিতীয় পৃথিবী’র বিবরণ নয়। ।

বড় গ্রহ মানেই কি জীবনের জন্য বেশি সুবিধা?

কোনও গ্রহের আকার তার পরিবেশের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পৃথিবীর তুলনায় কিছুটা বড় পাথুরে গ্রহের অভ্যন্তরে তাপ দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকতে পারে। সেই তাপের সঙ্গে যুক্ত ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে শিলার রাসায়নিক আদানপ্রদান জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

পৃথিবীর কার্বন চক্র এর একটি ভালো উদাহরণ। বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড সমুদ্র, শিলা ও জীবজগতের মধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আদানপ্রদান করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই চক্র পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে। অন্য কোনও পাথুরে গ্রহে অনুরূপ প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকলে সেখানেও তাপমাত্রার দীর্ঘমেয়াদি ভারসাম্য বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে গ্রহ বড় হলেই সেটি মানুষের জন্য আরামদায়ক হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। বেশি ভরের গ্রহে মহাকর্ষের টান বেশি হতে পারে। তার ফলে সেখানে চলাফেরা করা মানুষের পক্ষে কঠিন হতে পারে। আবার ঘন বায়ুমণ্ডল এবং প্রবল গ্রিনহাউস প্রভাব গ্রহের পৃষ্ঠকে অত্যন্ত উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

তাই বিজ্ঞানীদের কাছে আসল প্রশ্ন শুধু গ্রহ কত বড়, তা নয়। গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা কেমন, জল কতটা রয়েছে, বায়ুমণ্ডলে কী ধরনের গ্যাস আছে এবং নক্ষত্র থেকে কতটা শক্তি আসছে, সেই সব তথ্য একসঙ্গে বিচার করতে হবে।

জল থাকলেই কি প্রাণের নিশ্চয়তা?

পৃথিবীতে জীবনের পরিচিত রূপগুলির জন্য তরল জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে অন্য গ্রহের অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা এমন অঞ্চল খোঁজেন, যেখানে কোনও নক্ষত্রের চারপাশে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে তরল জল থাকতে পারে। এই অঞ্চলকে বলা হয় ‘হ্যাবিটেবল জোন’ বা বাসযোগ্য অঞ্চল।

কিন্তু বাসযোগ্য অঞ্চলে অবস্থান করা আর বাস্তবে বাসযোগ্য হওয়া এক কথা নয়। শুক্র তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সূর্য থেকে পৃথিবীর তুলনায় কাছাকাছি অবস্থানের কারণে সেখানে প্রবল তাপ এবং ঘন কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়েছে। অন্য দিকে, মঙ্গলে একসময় তরল জলের প্রবাহ ও হ্রদের অস্তিত্ব ছিল বলে ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে তার পৃষ্ঠ অনেক বেশি শুষ্ক ও শীতল।

অর্থাৎ, কোনও গ্রহের পরিবেশ তার ইতিহাসের সঙ্গে বদলে যেতে পারে। আজ কোনও গ্রহে জল থাকলেও ভবিষ্যতে তা হারিয়ে যেতে পারে। আবার অতীতে অনুকূল পরিবেশ থাকা কোনও গ্রহ এখন প্রাণের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে থাকতে পারে।

বিজ্ঞানীরা তাই গ্রহের বর্তমান অবস্থা জানার পাশাপাশি তার অতীত সম্পর্কেও ধারণা পেতে চান। বায়ুমণ্ডলের গঠন, পৃষ্ঠের তাপমাত্রা, নক্ষত্রের বিকিরণ এবং গ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস মিলিয়ে তবেই বাসযোগ্যতার মূল্যায়ন করা সম্ভব।

সূর্যের চেয়ে ছোট নক্ষত্র ঘিরে কেন আগ্রহ?

সম্ভাব্য সুপারহ্যাবিটেবল গ্রহের আলোচনায় K-শ্রেণির নক্ষত্র বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই নক্ষত্রগুলি সূর্যের চেয়ে সাধারণত ছোট ও শীতল। অনেক ক্ষেত্রেই এদের আয়ু সূর্যের তুলনায় দীর্ঘ হতে পারে। ফলে উপযুক্ত গ্রহে প্রাণের বিকাশের জন্য দীর্ঘ সময় পাওয়া সম্ভব।

পৃথিবীতে জীবনের ইতিহাস দেখলেই সময়ের গুরুত্ব বোঝা যায়। পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫৪ কোটি বছর। জীবনের প্রাচীন চিহ্ন পাওয়া যায় প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি বছর আগের শিলায়। অথচ জটিল বহুকোষী জীবের বিকাশ ঘটেছে পৃথিবীর ইতিহাসের অনেক পরে। প্রাণের বিবর্তন যে কত দীর্ঘ প্রক্রিয়া, পৃথিবী তারই উদাহরণ।

অন্য কোনও গ্রহে যদি দীর্ঘ সময় ধরে তরল জল, উপযুক্ত তাপমাত্রা এবং স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকে, তবে সেখানে জীবনের বিকাশের জন্য বেশি সময় পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘজীবী নক্ষত্র মানেই নিরাপদ পরিবেশ নয়। নক্ষত্রের বিকিরণ, অগ্ন্যুৎপাত এবং গ্রহের বায়ুমণ্ডল ধরে রাখার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই বিজ্ঞানীরা কোনও একটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করছেন না। তাঁরা খুঁজছেন এমন গ্রহ, যেখানে একাধিক অনুকূল পরিস্থিতি একসঙ্গে রয়েছে।

পৃথিবীর ভবিষ্যৎও কি একদিন বদলে যাবে?

আমাদের গ্রহ এখন প্রাণের জন্য উপযুক্ত হলেও এই পরিস্থিতি চিরস্থায়ী নয়। সূর্য ধীরে ধীরে আরও উজ্জ্বল হচ্ছে। বহু দূর ভবিষ্যতে তার প্রভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে পারে, জলচক্রে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং মহাসাগরের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বিপন্ন হতে পারে।

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মডেল অনুযায়ী, আগামী কয়েকশো কোটি বছরের মধ্যে পৃথিবী জটিল প্রাণের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে। তবে এর নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূর্যের বিবর্তন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং কার্বন চক্রের পরিবর্তন, সব কিছুর উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি।

এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে মানুষের শিগগিরই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। বরং এটি দেখায়, গ্রহের বাসযোগ্যতা একটি পরিবর্তনশীল বিষয়। কোনও গ্রহ একসময় প্রাণের উপযোগী হতে পারে, আবার বহু বছর পরে তার পরিবেশ বদলে যেতে পারে।

এই কারণেই পৃথিবীর বাইরের গ্রহগুলির দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের কাছে বিষয়টি শুধু মানুষের ভবিষ্যৎ বাসস্থান খোঁজা নয়, মহাবিশ্বে প্রাণের উৎপত্তি ও বিবর্তনের সম্ভাবনা বোঝারও একটি পথ।

PLATO-র চোখে ধরা পড়বে কি নতুন পৃথিবী?

এই অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ESA-র PLATO অভিযান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর পুরো নাম ‘PLAnetary Transits and Oscillations of stars’। সংস্থার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের উৎক্ষেপণ ২০২৭ সালের মার্চে করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহাকাশযানটিতে থাকবে ২৬টি ক্যামেরা, যেগুলি একসঙ্গে বহু নক্ষত্রের আলো পর্যবেক্ষণ করবে। ।

কোনও গ্রহ যখন তার নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন নক্ষত্রের আলো সামান্য ম্লান হয়ে আসে। এই ক্ষুদ্র পরিবর্তন মাপার মাধ্যমে গ্রহের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। নক্ষত্রের আলোর সূক্ষ্ম কম্পন বিশ্লেষণ করে তার বয়স ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও নির্ণয় করা সম্ভব। এই দুই ধরনের তথ্য একত্র করে বিজ্ঞানীরা গ্রহের আকার, ঘনত্ব এবং নক্ষত্র থেকে পাওয়া শক্তির পরিমাণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পেতে পারেন।

PLATO-র লক্ষ্য পৃথিবীর কাছাকাছি আকারের গ্রহ খুঁজে বের করা, বিশেষত যেগুলি সূর্যের মতো নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে রয়েছে। এই অভিযান সরাসরি অন্য গ্রহে প্রাণ আবিষ্কারের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে কোন গ্রহগুলিকে আরও শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত, তা বেছে নিতে সাহায্য করতে পারে।

ভবিষ্যতে নাসার পরিকল্পিত Habitable Worlds Observatory-ও এই অনুসন্ধানে ভূমিকা রাখতে পারে। এর লক্ষ্য সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের ছবি তোলা এবং তাদের বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করা। বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, মিথেন বা অন্য কোনও গ্যাসের উপস্থিতি প্রাণের সম্ভাবনা সম্পর্কে সূত্র দিতে পারে। কিন্তু কোনও একটি গ্যাস পাওয়া গেলেই প্রাণের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না। সেই গ্যাস অন্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াতেও তৈরি হতে পারে।

অন্য গ্রহে বাড়ি? এখনও বহু পথ বাকি

দূরবর্তী কোনও গ্রহে অনুকূল তাপমাত্রা ও জলের সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া এক বিষয়, সেখানে মানুষের বসবাস সম্ভব কি না, তা নির্ধারণ করা সম্পূর্ণ অন্য বিষয়। সেই গ্রহে শ্বাস নেওয়ার মতো বায়ু রয়েছে কি না, বিকিরণের মাত্রা কতটা, মাটিতে প্রয়োজনীয় উপাদান আছে কি না এবং দীর্ঘমেয়াদে মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে কি না, তার উত্তর জানতে হবে।

এর সঙ্গে রয়েছে দূরত্বের সমস্যা। নিকটবর্তী নক্ষত্রগুলির গ্রহেও পৌঁছতে বর্তমান প্রযুক্তিতে বিপুল সময় লাগতে পারে। ফলে আজকের গবেষণার মূল লক্ষ্য অন্য গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপন নয়, বরং সেখানে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা।

মহাবিশ্বে পৃথিবীর মতো গ্রহ থাকা সম্ভব, কিন্তু পৃথিবীর চেয়ে বেশি বাসযোগ্য গ্রহ থাকা এখনও একটি অনুমান। আগামী দিনের মহাকাশ অভিযান সেই অনুমানকে পরীক্ষা করার সুযোগ দেবে। হয়তো বিজ্ঞানীরা এমন কোনও জগতের সন্ধান পাবেন, যা জীবনের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে। আবার এমনও হতে পারে, পৃথিবীর মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া মহাবিশ্বে অত্যন্ত বিরল।

এখনও উত্তর মেলেনি। তবে প্রতিটি নতুন গ্রহের আবিষ্কার আমাদের একটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়—মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের জানা এখনও খুব সামান্য। আর সেই অজানার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি: পৃথিবীর বাইরে কোথাও কি সত্যিই প্রাণ রয়েছে?

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Identify Fresh Mutton: উৎসবের সময়ে টাটকা খাসির মাংস কিনতে, এই ৫ গোপন কৌশলগুলো জেনে নিন
Curd Health Benefits: রোজ টক দই খেলে শরীরের কী কী উপকার হয় জানেন?