অতিথি এসে গেছে, অথচ রান্না বাকি? ঘাবড়াবেন না। প্রেসার কুকার আর বাসমতি চাল থাকলেই ১০ মিনিটে বানিয়ে ফেলুন দানায় দানায় ঝরঝরে পোলাও। কড়াই-কড়চা নেই, ঝামেলা নেই। গরম গরম পরিবেশন করুন চিকেন কষা বা ডিমের কারির সাথে। রইল একদম ঘরোয়া টিপস সহ ডিটেইল রেসিপি।

বিয়েবাড়ির পোলাও খেতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রাঁধার সময় নেই। হঠাৎ ফোন এল – "মা, আমি ১৫ মিনিটে বাড়ি পৌঁছচ্ছি"। এই সিচুয়েশনে কড়াইতে পোলাও বানাতে গেলে হিমশিম খাবেন। সমাধান একটাই – প্রেসার কুকার। ব্যস্ত মানুষের জাদুর বাক্স। ১০ মিনিটেই বানিয়ে ফেলুন রেস্তোরাঁর মতো ঝরঝরে পোলাও। চাল গলে যাবে না, আবার কাঁচাও থাকবে না। ট্রিকটা শুধু জল, আঁচ আর একটু ধৈর্যের।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উপকরণ – ৩জনের জন্য

বাসমতি চাল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, সাদা তেল ১ চা চামচ, তেজপাতা ১টা, দারুচিনি ১ ইঞ্চি, এলাচ ২টো, লবঙ্গ ৩টে, পেঁয়াজ কুচি ১টা মাঝারি, আদা-রসুন বাটা ১চা চামচ, গরম জল ১.৫ কাপ, নুন স্বাদমতো, চিনি ১/২ চা চামচ। কিসমিস, কাজু, কেওড়া জল থাকলে স্বাদ আরও বেড়ে যাবে। না থাকলেও চলবে।

১০ মিনিটের রেসিপি – স্টেপ বাই স্টেপ

স্টেপ ১: চাল রেডি করুন - ২ মিনিট

বাসমতি চালের আসল ট্রিক এখানেই। চাল ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে দানা লম্বা হয়। সময় না থাকলে সরাসরি ধুয়েই নিন। তবে ভালো করে ৩-৪ বার জল পাল্টে ধুতে হবে যতক্ষণ না জল একদম পরিষ্কার হয়। চালের গায়ের অতিরিক্ত স্টার্চই পোলাও আঠা করার মূল কারণ। ধোয়া হয়ে গেলে ঝাঁঝরিতে ৫ মিনিট রেখে জল ঝরিয়ে নিন। শুকনো চাল = ঝরঝরে পোলাও।

স্টেপ ২: ফোড়ন আর ভাজা - ৩ মিনিট

প্রেসার কুকার গরম করে ঘি + সামান্য তেল দিন। শুধু ঘি দিলে পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। ঘি গরম হলে তেজপাতা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ ফোড়ন দিন। ১০ সেকেন্ড পর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে মিডিয়াম ফ্লেমে হালকা সোনালি করে ভাজুন। পেঁয়াজ লাল করবেন না, নাহলে পোলাওয়ের রং নষ্ট হবে। এবার আদা-রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ চলে যাওয়া পর্যন্ত ৩০ সেকেন্ড নাড়ুন। কাজু-কিসমিস থাকলে এখনই দিয়ে একটু ভেজে নিন।

স্টেপ ৩: চাল ভাজা - ২ মিনিট

জল ঝরানো চাল দিয়ে দিন কুকারে। গ্যাস ফুল ফ্লেমে রাখুন। খুন্তি দিয়ে খুব হালকা হাতে চাল নাড়তে থাকুন ২মিনিট। চাল ভাঙবেন না। চালের গায়ে যেন ঘি লেগে প্রতিটা দানা আলাদা হয়ে যায়। চালের রং একটু স্বচ্ছ, মুক্তোর মতো হয়ে এলে বুঝবেন ভাজা পারফেক্ট হয়েছে। এই ভাজাটাই পোলাও ঝরঝরে করার ৫০% কাজ।

স্টেপ ৪: প্রেসার কুকারের ম্যাজিক - ৩ মিনিট

এবার ফুটন্ত গরম জল ঢেলে দিন। চালের ১ কাপের জন্য জল লাগবে ১.৫ কাপ। এই ১: ১.৫ রেশিও মিস করবেন না। ঠান্ডা জল দিলে চাল শক পেয়ে আঠা হয়ে যাবে। নুন, সামান্য চিনি দিন। চিনি দিলে দানা ঝরঝরে থাকে আর স্বাদের ব্যালান্স হয়। এবার ঢাকনা বন্ধ করে দিন। হাই ফ্লেমে ১টা সিটি দিন। সিটি পড়ার সাথে সাথেই গ্যাস একদম সিম করে দিন। সিমে রাখুন ঠিক ২ মিনিট। ব্যাস, গ্যাস বন্ধ।

সবচেয়ে জরুরি টিপস – দমে রাখা

গ্যাস বন্ধ করার পর কুকারের ঢাকনা খুলবেন না। এটা সবচেয়ে বড় ভুল। প্রেসার নিজে থেকে রিলিজ হতে দিন। ৫-৭ মিনিট দমে রাখুন। এই দমেই চাল পুরো সেদ্ধ হবে আর দানাগুলো নিজে থেকে আলাদা হয়ে যাবে। তাড়াহুড়ো করে ঢাকনা খুললেই গরম ভাপে পোলাও ভেঙে ল্যাটপ্যাটে হয়ে যাবে।

প্রেসার বেরিয়ে গেলে ঢাকনা খুলে ফর্ক দিয়ে হালকা হাতে নীচ থেকে ওপরের দিকে তুলে দিন। খুন্তি ব্যবহার করবেন না। দেখবেন একটা চাল আর একটার গায়ে লাগবে না। ওপর থেকে আরেকটু ঘি আর কেওড়া জল ছড়িয়ে ২ মিনিট ঢেকে রাখুন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

ঝরঝরে পোলাওয়ের ৩টি সিক্রেট টিপস

১. জল সবসময় গরম: ঠান্ডা জল দিলেই চাল আঠালো হবে। কেটলিতে জল ফুটিয়ে রাখুন।

২. চাল ভালো করে ধোয়া + শুকানো: স্টার্চ না ধুলে পোলাও ল্যাটপ্যাটে হবে। জল ঝরানো মাস্ট।

৩. ১ সিটির বেশি নয়: বাসমতি চাল ১ সিটির বেশি সহ্য করে না। বেশি সিটি দিলেই গলে যাবে। সিমে ২ মিনিটই যথেষ্ট। সিটির সংখ্যা নয়, দমটাই আসল।

কী দিয়ে খাবেন?

আলু ভাজা, বেগুন ভাজা, পটল ভাজা দিয়ে সাদা পোলাওই অমৃত। সঙ্গে ডিমের কারি, চিকেন কষা, মটন রেজালা হলে তো কথাই নেই। সময় কম থাকলে শুধু টক দই, আলু ভর্তা আর আচার দিয়েই খেয়ে নিন। জমে যাবে।

তাই পরেরবার সময় কম থাকলেও পোলাও বানানো বন্ধ করবেন না। প্রেসার কুকার আছে, টেনশন নেই। ১০ মিনিটে রান্না, আর প্রশংসা কুড়োন সারাদিন। অতিথি বুঝতেই পারবে না এটা ঝটপট রান্না।